বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম -দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

এদিকে এসব প্রকল্পে অবৈধভাবে নিয়োগ দেয়া ম্যানেজারদের বাদ দিয়ে কৃষকদের ভোটের মাধ্যমে করার দাবী। সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকালে অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকরা অভিযোগ করেন, উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএডিসি।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও বিএডিসি সেচ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ প্রকল্পের কৃষক এম আর চৌধুরী শিপু, হাজী শেখ জসীম উদ্দীন, এম মাহবুবুল আলম কিসমত, মো. রায়হান মিয়াসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত অভিযোগে কৃষকরা উল্লেখ করেন, উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্তের আগেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থি।

ম্যানেজার পদে আবেদনকারীরা জানান, তারা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দেন এবং প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সেচ প্রকল্পের সভাপতি বরাবর নির্বাচনের দাবি জানান। ইউএনও আশ্বাস দিয়েছিলেন যে উপজেলা সেচ কমিটির সভা শেষে কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ৯ নভেম্বর সভা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ৬ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে অফিস নোটিশ বোর্ডে নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং একই সঙ্গে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

কৃষকদের দাবি, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে রাজনকে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সেচ প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৫০ শতাংশই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টগ্রাম উপজেলার মোট ৭৪টি সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগে প্রায় ৪ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটি অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের নিয়োগ বাতিল করে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হোক। পাশাপাশি তারা কৃষকদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন ম্যানেজার নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও অষ্টগ্রাম উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব আসাদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। অফিসও তালাবদ্ধ ছিল। জেলা বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, উপজেলা সেচ কমিটি এসব প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছে।

এখানে আমাদের কোনো হাত নেই। আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। যোগাযোগ করা হলে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোছা. দিলশাদ জাহান জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।