মোঃ আশিকুর রহমান
জলসুখায় শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অযুহাতে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শম্ভু দেবনাথের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে আজমিরীগঞ্জের জলসুখার দক্ষিণ আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে তার বাড়িতে দীর্ঘ নয়ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অবশেষে খবর পেয়ে দিবাগত রাত ৯ টায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষককে মুক্ত করে থানায় নিয়ে আসে পুুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, আজমিরীগঞ্জের জলসুখার দক্ষিণ আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শম্ভু নাথ দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অযুহাতে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
এরই ধারবাহিকতায় গতকাল বুধবার এক পর্যায়ে এক ছাত্রী শ্লীলতাহানির বিষয়টি তার অভিবাবককে খুলে বলেন। পরবর্তীতে তার মেয়ে শিক্ষার্থীকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শম্ভু দেবনাথ এর বাড়িতে যান অভিবাবক। শিক্ষকের স্ত্রী শিশু শিক্ষার্থী সহ তার অভিবাবককে গালমন্দ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে তার অভিভাবক স্কুলে নিয়ে এসে শ্লীলতাহানির বিষয়টি খুলে বলে। এ সময় শ্রেণীকক্ষের ভূক্তভুগী ছাত্রীরা তার অভিযোগটি সমর্থন করে।
উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একের পর এক সবাই ঘটনা খুলে বলে। মুহুর্তের মধ্যে ভূক্তভুগী ছাত্রীদের অভিযোগ এলাকায় চাওর হয়ে যায়। তাদের অভিভাবকরা বিষয়টি জানতে ক্ষুদ্র হয়ে একত্রিত হতে থাকে। অভিবাবক সহ এলাকার লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষক শম্ভু দেবনাথকে তাহার নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ সময় তারা শিক্ষকের বাড়িঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ ৮ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পর রাত ৯ টায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে ওই শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন।
অভিভাবক মো.আনোয়ার হোসেন জানান, এই লম্পট মাষ্টার দীর্ঘদিন ধরে এসব জঘন্য অপকর্ম করে আসছিলো। শিশু শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। যার জন্য ভয়ে কেউ এ ব্যাপারে কথা বলত না। আজ এক ছাত্রী মূখ খুলাতে ভুক্তভোগী সবাই মুখ খুলেছে এর সঠিক বিচার চাই ।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শফিকুল ইসলাম জানান, অভিবাবক ও এলাকার লোকজনদের সহায়তায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। শিক্ষকে থানায় রাখা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অভিভাবকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

