বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে আড়াই হাজার হেক্টর জমি এখনো পানির নিচে। জলাবদ্ধতার কারণে বোরো মৌসুমের বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকেরা। দ্রæত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে বিপাকে পড়বেন কলমা, আদমপুর ও পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের হাজারো কৃষক। বছরের এই সময় বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত থাকলেও এবার দৃশ্য ভিন্ন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অষ্টগ্রামের বাদাঘাট থেকে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পলি পড়ে বৈঠাখালি নদীর পথ ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সাতটি মৌজার দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে চাষাবাদ শুরুর আগেই দুশ্চিন্তার পড়েছেন কৃষকেরা।

কলমা গ্রামের কৃষক বরীন্দ্র দাস বলেন, “নদীটা যদি খনন না করা হয়, তাহলে না খেয়ে থাকতে হবে। আমাদের পরিবারের জীবিকা পুরোপুরি কৃষির ওপর।” একই এলাকার কৃষক দীপংকর দাস বলেন , “অন্যান্য বছর এই সময়ে জমি শুকনা থাকত। এবার কোথাও হাটু, কোথাও কোমর পানি। ঋণ করে বর্গা জমি নিয়েছি, কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে কিছুই করতে পারছি না।”

আরেক কৃষক নিখিল দাস বলেন, “এই সময় হাওরে কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকি। কিন্তু এবার পানি না কমায় কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।” আদমপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, “পানি না নামলে বীজতলা তো দূরের কথা, চাষই করা সম্ভব নয়। ইকুরদিয়া নদী খনন না করলে জলাবদ্ধতা কমবে না।”

একই এলাকার কৃষক আলী আক্কাছ বলেন, “জলাবদ্ধতায় পাঁচ হাজার একরের বেশি জমি ডুবে আছে। অনেকেই চাষাবাদ ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে হাওরের বড় ক্ষতি হবে।” অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, “পলি পড়ে বৈঠাখালি নদীর মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এতে আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোরো আবাদ হুমকিতে পড়েছে।” তিনি বলেন, “এই জমিগুলো থেকে ৩০ থেকে ৩৬ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে। সমস্যা সমাধান না হলে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, “বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং চাষাবাদের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।