বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কাস্তুল ইউনিয়ন পরিষদের জমি দখলকে কেন্দ্র করে তিন সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা, ক্যামেরা ছিনতাই, অবরুদ্ধ করে রাখা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের পরও ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে—অষ্টগ্রাম থানার ওসি মামলা রেকর্ড করেননি। এতে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। ঘটনাটি গত ১৬ ই নভেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় ঘটে । ঘটনার পর পর সাংবাদিক নাদিরুজ্জামান অষ্টগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সে দৈনিক ইনকিলাবের অষ্টগ্রাম প্রতিনিধি।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—হামলাকারীরা সাংবাদিকদের বেধড়ক মারধর করে, একজনের ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউপি সদস্য মো. জামাল প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, “নিউজ করলে লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ভাসাইয়া দিবো।”

তিন সাংবাদিক হামলার মুহূর্তেই বিষয়টি অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. দিলশাদ জাহানকে ফোনে জানান। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।

হামলায় বাধা দিতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আঙ্গুর ভূঁইয়া (৭০) গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও অষ্টগ্রাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শহীদুল হককে বিষয়টি জানালেও ২৪ ঘণ্টা অতিক্রমের পরও মামলা গ্রহণ না করায় সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জমির দাতা মো. সেলিম বলেন, “পরিষদকে দান করা ৫০ শতক জমি দখলের চেষ্টা হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাইফুল হক রন্টির ইশারায় এসব হামলা হয়েছে।”

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জামাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “নিজস্ব জমিতে ঘর করেছি। হামলা-অবরুদ্ধের অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে। জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. দিলশাদ জাহান বলেন, “দুই পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। সরকারি জমি দখলের প্রমাণ মিললে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন—জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্য হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কেন মামলা নেওয়া হলো না?

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়রা বলছেন,
“সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ক্যামেরা ছিনতাই—সবকিছু জানা সত্ত্বেও কেন মামলা গ্রহণ হয়নি? প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা না হলে উত্তেজনা আরও বাড়বে।”

বার্তা প্রেরক: বিজয় কর রতন, মিটামইন, কিশোরগঞ্জ।