বিশেষ প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজীপাড়া ও বনিকপাড়া এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্রের আধিপত্য, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম”বাংলাদেশ আমার” এ প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদের পর মানিক বণিক লিখিত প্রতিবাদ পাঠিয়ে দাবি করেন—তার পরিবার মাদক বা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত নয় এবং প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

তবে তদন্তে বেরিয়ে এল থলের বিড়াল। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, আদালতের নথি এবং পূর্বের ঘটনাগুলো এই প্রতিবাদের সাথে স্পষ্ট অসঙ্গতি তৈরি করেছে।

নথিতে দেখা যায়—২০২১ সালের ৭ জুন তার ভাতিজা সুধীপ বণিক (শান্ত) আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়ে জেলহাজতে যান এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস কেস নং ২৬২৪৭/২১–এ ২৯ জুন জামিন নিয়ে ১৮ জুলাই কারামুক্ত হন।

একইভাবে তার আরেক ভাতিজা সৌরূপ বণিকের মালিকানাধীন ‘ঝলক শিল্পালয়’ থেকে পুলিশ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে, যা সে সময় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

Oplus_16908288

প্রতিবাদলিপিতে মানিক বণিক দাবি করেন—তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে—২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে নৌকার প্রার্থী ও সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে তিনি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

তার ছন্দা স্টুডিওর সামনে একাধিক মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট লোকমান হোসেন এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বাবু।

Oplus_16908288
Oplus_16908288

এছাড়াও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শোভনের নির্বাচনি প্রচারণাতেও মানিক বণিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে—যার ছবি এবং ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবাদে মানিক বণিক সংবাদটিকে একপাক্ষিক দাবি করলেও আদালতের নথি, পূর্ববর্তী ঘটনাবলি এবং রাজনৈতিক মিটিংয়ের দৃশ্যমান প্রমাণ তার বক্তব্যের সাথে অসংগতি তৈরি করেছে।

ফলে বহুল আলোচিত অনলাইন গণমাধ্যম “বাংলাদেশ আমার” এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসে স্থানীয় মহলে নতুন করে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।