
হারুন শেখ

বাগেরহাটের রামপালে বেড়াতে আসা জালি বোট উল্টে মইদাড়া নদীতে ভেসে যাওয়া নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ২০ জনকে উদ্ধার করেছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিকাল আনুমান ৫ টার সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। ভেসে যাওয়া ও আহতদের উদ্ধার করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বোটে ৫২ জন যাত্রী ছিল।
রামপাল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, খুলনা জেলার দাকোপ, চালনা ও বাইনতলা থেকে ৫২ জন লোক একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকা গৌরম্ভায় একটি পারিবারিক অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানে যোগদান করে ফিরে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। বিকাল ৫ টার সময় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং গেটের ব্রীজের সামনে মইদাড়া নদী দিয়ে যাওয়ার পথে দূর্ঘটনাবশত বোটটি উল্টে যায়।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান গেটের কাছাকাছি হওয়ায় দুর্ঘটনার শব্দে প্রধান গেটে কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ডদের নজরে আসলে সাথে সাথে তারা সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুম কে অবহিত করে। সিকিউরিটি কন্ট্রোল রুম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি মেডিকেল টিম এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়োজিত ফায়ার এন্ড সেফটি টিমকে অবহিত করে। কিছু লোক সাঁতার কেটে তীরে আসলেও বৃদ্ধ এবং শিশুরা নৌকার নিচে আটকা পড়ে যায়।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিকিউরিটি, ফায়ার এন্ড সেফটি এবং মেডিকেল টিম তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্সে করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় নৌকাটিতে কয়েকজন শিশু সহ ২০ জন লোক আহত হয়। বাকি ৩২ জন সাঁতার কেটে তীরে আসতে সক্ষম হয়।
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রর উপমহাব্যবস্থাপক ও মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম দ্রুত হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত তাদের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বিশেষ করে শিশুসহ আহত সবাইকে কে উদ্ধার করে নিরাপদে হাসপাতালে প্রেরণ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
কর্তব্যরত ডাক্তার ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমান এর সাথে কথা বলে জানা যায়, সবাইকে দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং আহত সবাই বিপদমুক্ত আছে তবে তাদেরকে কিছু সময় অবজারভেশনে রাখতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-মহা ব্যাবস্থাপক তরিকুল ইসলাম।

