
কিশোরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে বেধড়ক পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার সময় কুকুরও কামড়েছে তাঁকে।
এ ঘটনায় আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারীর মা। গত ২৬ নভেম্বর এক লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগী নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মামলায় আসামিরা হলেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মো. শহীদ মিয়া, শ্বশুর সাবান মিয়া ও শাশুড়ি মঞ্জিলা খাতুন। তাঁরা সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরীহাঁটি গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারীর বাবার বাড়ি একই এলাকায়। তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে শহীদ মিয়ার সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের টাকার জন্য ওই নারীকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে এলাকায় অনেক সালিসও হয়। গত ২৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী ওই নারীর কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁর ওপরে চলে ব্যাপক নির্যাতন। বাঁশ ও এসএস পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটান স্বামী শহীদ মিয়া।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী মারধরে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে বাড়ির পাশে সামনের সড়কে ফেলে দেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। এ সময় কুকুর ওই নারীকে কামড়িয়ে জখম করে। পরে আশপাশের লোকজনের কাছে খবর পেয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেন তাঁর মা।
ভুক্তভোগী নারীর মা বলেন, ‘আমার মেয়েকে মেরে কোমরের হাড় ভেঙে ফেলেছে ওই পাষণ্ডরা। মারপিট করে সড়কে ফেলে রাখে আমার মেয়েকে। অজ্ঞান অবস্থায় আমার মেয়েকে পাগলা কুকুরেও কামড়িয়েছিল। আমার মেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এতেও শান্ত হয়নি তারা। আমাদের রাস্তায় পেয়ে হুমকি দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা ভয়ে-আতঙ্কে আছি। আমরা গরিব মানুষ কি তাহলে বিচার পাব না!’
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাজরীন তৈয়ব বলেন, কোমরে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে অবস্থা উন্নতির দিকে। এ ছাড়া কুকুরে কামড় দিয়েছিল। সেই কামড়ের ক্ষতও এখন উন্নতির দিকে। কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত স্বামী মো. শহীদ মিয়া বলেন, ‘আমি মেরেছি, কিন্তু এসএস পাইপ দিয়ে মারিনি। আমি স্ত্রীকে রাস্তায়ও ফেলে আসিনি। আমার স্ত্রী ব্যাগ গুছিয়ে বাড়ি থেকে নিজেই চলে যায়। আমাদের নামে যেসব বলা হয়েছে, সব মিথ্যা।’ বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহাদাত হোসেন মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদীর জবানবন্দি নিয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আদালতের আদেশ আমাদের হাতে এসে এখনো পৌঁছায়নি। হাতে পেলেই তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.