মোঃ সেলিম মিয়া
বিগত ১৫ বছর দুর্নীতিবাজ সরকার, লুটেরা ও তার ঘনিষ্টজনেরা ২৮ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করেছে। এই টাকা দিয়ে কয়েক বছরের বাজেট করা যাবে। তারা বিদেশে টাকা পাচার করে, বেগম পাড়ায় একাধিক বাড়ি বানিয়েছে, আকাশচুম্বি সম্পদের পাহাড় করেছে। আর পক্ষান্তরে সাধারণ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে।
তারা দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পেছনে ছুঁটতে ছুঁটতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তাদের বেতন বাড়ে ১০ টাকা, জিনিসপত্রের দাম বাড়ে ২০ টাকা। তাদের মাইনে বাড়ে ১৫ টাকা, জিনিসপত্রের দাম বাড়ে ৩০ টাকা। সুতরাং বেতন বাড়ার পরও তাদের মুখে হাঁসি ফোটে না। যে দেশের মানুষ তার অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা পারে না, নিজের আদরের সন্তানের মুখে দুধ তুলে দিতে পারে না, চোখের অশ্রুতে বুক ভেসে যায়, আমরা এমন দেশ দেখতে চাই না।
এই বৈষম্য আমরা দেখতে চাই, আমরা ইনছাফের দেশ গড়তে চাই। বুধবার ১০ ডিসেম্বর দুপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফুলবাড়িয়া উপজেলা শাখা আয়োজিত ফুলবাড়িয়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খেলাফত মজলিসের গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিরে মজলিস, শাইখুল হাদিস অধ্যাপক আল্লামা মামুনুল হক এ সব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জুলুম এবং শাসন থেকে মুক্ত করা হয়েছে নতুন করে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিতে চেষ্টা করছে। আমরা শপথ করেছি, জীবন দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ দূর করা হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদ ভিন্নরূপে ক্ষমতার মসনদে আসার চেষ্টা করলে আবার আমরা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলবো। মাথাপিছু আয় ও গড় ইনকাম বাড়লেও তার সুফল কোটিপতি ও শিল্পপতিরা ভোগ করে।
কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এর সুফল প্রকৃত অর্থে ভোগ করতে পারে না। নামাজী দায়িত্বশীলরা ব্রীজ, কালভার্ট নির্মাণ করার দায়িত্ব দেওয়া হলে, তারা রডের বদলে বাঁশ দিবে না। তারা সিমেন্টের টাকা মেরে খেয়ে বালু দিয়ে রাস্তা তৈরি করবে না। মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থে, দেশের টাকা লুটপাট করবে না। এ জন্য প্রয়োজন কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি বান্ধব সরকার।
তিনি ভিন্নধর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আপনাদের প্রতিশ্রুতি দেই, অনেক রকম বাংলাদেশ তো দেখেছেন অনেক দলের শাসন দেখেছেন। একটা বার বৈষম্যহীন ইনসাফের গ্যারান্টি আল কোরআনের সমাজ গড়বার সুযোগ আমাদেরকে দিয়ে দেখেন। আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।
এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ফুলবাড়ীয়া আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী মুফতি আব্দুল কাদির (দা.বা.), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, কেন্দ্রীয় বাইতুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইসলামী সমমনা দলের পক্ষে জামায়াত ইসলামী ফুলবাড়িয়ার নমীনি অধ্যক্ষ মু. কামরুল হাসান মিলন, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি নুরে আলম সিদ্দীকি অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।

