বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ফুটবল -হকি দুটোই গোলের খেলা। দিনশেষে গোল নিয়ে তাই বেশি মাতামাতি ও।কিন্তু যারা গোল আটকান, তারা থাকেন আড়ালে। তেমনি একজন গোলকিপার আশরাফুল হক সাদ। ভারতের চেন্নাই ও মাদুরাইয়ে জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়ে চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতেছেন বাংলাদেশ। যে দলের গোল পোস্ট সামলেছেন এই তরুণ। অথচ তার থাকার কথা ফুটবল খেলার মাঠে। এক সময় ফুটবলই ছিল তার প্রিয় খেলা। কিশোরগঞ্জ জেলার হয়ে নিয়মিত খেলতেন। ফুটবলেও গোল আটকানোর কাজটাই করেছেন।

২০১৬ সালে পাই জুনিয়র লিগে তোতা স্পেটস একাডেমিক হয়ে আলো ছড়ান। তখনই স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলার। কিন্তু সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। অনেকটা অভিমানে ফুটবলের বুটজোড়া রেখে দাঁড়িয়েছেন হকির গোলপোস্টে ।

এই তরুণের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে। তার পিতা আতিকুজ্জামান সেলিম মজুমদার। এই খেলোয়ারের পুরো নাম আশরাফুল হক সাদ মজুমদার।

এই তরুণ নক্ষত্র বলেন, ফুটবলে যা করতে পারিনি হকিতে সেটা করে দেখিয়েছি। এক সময় স্বপ্ন দেখতাম জাতীয় দলে নাম লেখাবো। আজ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে। ২০১৭ সালে প্রতিভা অন্বেষণ দিয়ে বিকে এসপিতে ভর্তির সুযোগ পান। আর পেছনে তাকাতে হয়নি সাদের।২০২৩সালে জুনিয়র হকির দলের ডাক পান। দুই বছর যেতেই বিশ্বকাপের স্কোয়াদে জায়গা করে নেন। যদিও ফুটবল ছেড়ে হকিতে আপন করে নেওয়ার কাজটা তার জন্য সহজ ছিল না। সবকিছু শিখতে হয়েছে শূন্য থেকে।

স্বপ্ন বাস্তব করতে যখন সুযোগ এলো, তখন তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হকির গোলকিপারদের সব সরঞ্জাম কেনা মানে বিশাল ব্যয়। সাদ তবু ও হাল ছাড়েননি।মাথা ও মুখ সুরক্ষার জন্য হেলমেট সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুরক্ষার সরঞ্জাম কিনতে বাবা আতিকুজ্জামান সেলিমের কাছে সাড়ে চার লক্ষ টাকা চান। বাবা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে টাকা জোগাড় করেন। সাদের স্বপ্ন আজ ডানা মেলেছে।সাদ বলেন জানি হকিতে টাকা নেই। তারপরও তারপরও পরিশ্রম করে যাচ্ছি দেশের জন্য।

দেশের হয়ে কিছু একটা করতে পারলে ভালো লাগে। যখন বিশ্বকাপ দলে ডাকপাই তখন খুশি হয়েছি ঠিকই, কিন্তু গোল কিপারের সরঞ্জাম কেনার চিন্তাটা ছিল। বাবাকে অনেক বুঝিয়ে টাকাটা নিতে হয়েছে। ভারতে আসার সময় বাবাকে বলেছি দেশে এসে টাকা ফেরত দিবো। যদি না পারি অন্তত ভালো রেজাল্ট নিয়ে আসবো। বাবাকে দেওয়া কথা রেখেছেন সাদ।বিশ্বকাপে ২৪ দলে ১৭ তম হয়েছে বাংলাদেশ। এতেই খুশি সাদ।কখনো ভাবিনি ফুটবল ছেড়ে হকি খেলতে হবে। এই সিদ্ধান্তটি নিতে অনেক কষ্ট হয়েছিল তখন। অনেকে বলেছিল হকিতে কিছুই নেই। এটা ঠিক আমার অনেক লড়াই করতে হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেললাম। এটা আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া। এখন মনে হচ্ছে আমি পৃথিবীর সুখী মানুষ। বিশ্বকাপে খেলে সাদ দেশকে গর্বিত করেছেন। সাদ প্রমাণ করেছেন পরিশ্রম করলে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো যায়।