
গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বাদামের চর এলাকার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তিস্তা নদীতে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা শহর থেকে মালামাল এনে ব্যবসা করা এখন চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাদামের চরের ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, বর্তমানে ঘোড়ার গাড়ি কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচল করা ছাড়া চরের ভেতরে যাতায়াতের আর কোনো উপায় নেই। অথচ আজ থেকে ১৫ বছর আগেও নৌপথে সহজেই মালামাল আনা-নেওয়া করা যেত।
হরিপুর চরের নৌ-শ্রমিক মো. জিল্লু মিয়া বলেন, ১০ বছর আগেও তার পাঁচটি নৌকা ছিল। নৌকা চালিয়েই তিনি সংসার চালাতেন। বর্তমানে মাত্র একটি নৌকা রয়েছে, সেটিও বছরে মাত্র চার মাস মূল নদীতে চলাচল করতে পারে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর নৌকা চলাচল সম্ভব হয় না। ফলে মাঝি-মাল্লারা বেকার হয়ে পড়েছেন। নদীতে পানি না থাকায় বালুচরে পড়ে থেকে নৌকাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নদী খনন ও ড্রেজিং করা হলে হয়তো তিস্তা আবার তার স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পাবে।
নদী খনন, ড্রেজিং, সংস্কার, শাসন ও সংরক্ষণ না করায় তিস্তা নদীতে চরম নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও পলি জমে নদীটি ভরাট হয়ে পড়েছে। একসময় খরস্রোতা তিস্তা নদী এখন অগভীর ও মৃতপ্রায়। নাব্য সংকটের কারণে অন্তত ২০টি নৌ-রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে হাজারো নৌ-শ্রমিক ও জেলে বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী দীর্ঘ ৫৪ বছরেও খনন বা ড্রেজিং করা হয়নি। ফলে নদীটি ভরাট হয়ে অনেক জায়গায় আবাদি জমিতে রূপ নিয়েছে। তিস্তা তার গতিপথ পরিবর্তন করে অসংখ্য শাখা নদীতে বিভক্ত হয়েছে। বর্তমানে বছরে মাত্র ছয় মাস মূল নদীতে নৌকা চলাচল করে। বাকি সময় চরবাসীকে পায়ে হেঁটে নদী পারাপার করতে হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পাঁচপীর, বেলকা, মীরগঞ্জ ও তারাপুর খেয়াঘাট থেকে পীরগাছা, কাউনিয়া, উলিপুর, কুড়িগ্রাম, কাশিমবাজার, চিলমারি, রৌমারি, মোল্লার চর, ভূরুঙ্গামারি, দেওয়ানগঞ্জ, কামারজানি, গাইবান্ধা, সাঘাটা, ফুলছড়ি, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, বালাশীঘাট, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল ছিল। বর্তমানে নাব্য সংকটের কারণে এসব রুটে নৌ-চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বেলকা চরের জেলে মালেক মিয়া বলেন, “তিস্তা নদীতে এখন আর পানি নেই। পলি জমে নদী ভরে গেছে। গত ১৫ বছর ধরে আমরা তিস্তায় মাছ ধরতে পারছি না।” ফলে অনেকে মাছের ব্যবসা, কেউ রিক্সা বা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজহারুল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদী এখন অনেক জায়গায় আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। উজানের পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে অসংখ্য শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার প্রায় ২০টি নৌ-রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরবাসীকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। নৌ-শ্রমিক ও জেলেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। নদী খনন ও ড্রেজিং এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের সঙ্গে পলি জমে তিস্তা নদী ভরাট হয়ে গেছে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর বন্যার সময় নদীভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি ও হাজারো একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীটি খনন ও ড্রেজিং করে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা গেলে উপজেলার বড় একটি অংশ নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বলেন, নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ এবং স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে আমাদের করণীয় সীমিত।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.