আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কে দাস মার্কেটে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে শাহীন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী তানজিনা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কে দাস মার্কেটের ৩য় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আহত শাহীন মিয়া কে দাস মার্কেটের নিচতলার ১৯ ও ২০ নম্বর দোকানের মালিক। মার্কেটের মালিক সানাউল হক চৌধুরী ২০১৩ সাল থেকে কে দাস মার্কেটের একমাত্র বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের এখানের জায়গাটিও শাহীন মিয়া ক্রয় করেন। এরপরও থেকেই দেখাশোনা ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে বিদ্যুৎ বিল উত্তোলনসহ সার্বিক দায়িত্ব শাহীন মিয়ার ওপর পরে।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ওই দায়িত্ব পালন করে আসলেও পরবর্তীতে মার্কেট কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আসামিরা শাহীন মিয়ার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে থাকে এবং পরবর্তীতে নিজেরাই বিল পরিশোধ করতে থাকে।

ঘটনার দিন মুখে মাস্ক ও চোখে কালো চশমা পরিহিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি শাহীন মিয়াকে কে দাস মার্কেটের ৬ষ্ঠ তলায় প্রথম আসামির অফিসে ডেকে নিয়ে যায়। সে খানে কাউকে দেখতে না পেরে শাহীন নিচে নামার সময় ৪র্থ তলায় পৌঁছালে অজ্ঞাত আসামিরা জোরপূর্বক তাকে ৩য় তলার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো দা, বেনার, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
হামলায় আসামিরা বুকে বেনার দিয়ে আঘাত করলে শাহীন মিয়ার বুকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে ধারালো দা দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে শাহীন মিয়া হাত দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তার দুই হাতের তালু ও কনুইয়ের নিচে মারাত্মক কাটা জখম হয়।

এসময় আসামিরা এঘটনায় যদি কোনো মামলা তা হলে শাহীনকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গুরুতর আহত শাহীন মিয়াকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে, মার্কেট কমিটির সিনিয়র সভাপতি মোঃ আব্বাস উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক টুটন মোদক, সুমন বনিক, বিশ্বনাথ সরকার, লিটন কর্মকারসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।