বিজয় কর রতন
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপির সাবেক দুবারের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সদ্য জামায়াতে যোগ দেওয়া নিয়ে নিজ এলাকায় একটি ‘কৈফিয়ত সভা’ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপি আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আমার লোকেরা টকশো করে; মাইক বাজিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে আমাকে ফেরত নেন।
অনেককেই ফেরত নিয়েছেন। আমাকে নেননি। জামায়াত আমাকে আশ্রয় দিয়েছে। তারা আশ্রয় না দিলে রাস্তায় পড়ে থাকতাম। আমি জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে আমি নির্বাচন করব না। যদি জামায়াত ক্ষমতায় যায়, তবে নিশ্চয়ই তারা আমার কোনো একটা উপকার করবে।’
আখতারুজ্জামান গতকাল শনিবার বিকেলে নিজ এলাকা কটিয়াদীর গচিহাটা কলেজ মাঠে এ কৈফিয়ত সভার আয়োজন করেন। এ সময় সভায় উপস্থিত কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতের আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এবারের জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল চিৎকার করে সমস্বরে আখতারুজ্জামানকে আশ্বস্ত করেন।
বক্তব্য শুরুর আগে আখতারুজ্জামান ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেন। এরপর মোবাইল ফোন থেকে মাইকে একটি গান বাজান, ‘একূল ভাঙে ওকূল গড়ে, এই তো নদীর খেলা। সকাল বেলায় আমিররে ভাই, ফকির সন্ধ্যাবেলায়’। আখতারুজ্জামান ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে যোগ দেন। ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সদস্য ফরম পূরণ করে দলে যোগ দেন তিনি।
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলসহ নিজ এলাকায় বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছিল। এসবের জবাব দিতে তিনি প্রকাশ্য কৈফিয়ত সভা ডেকে এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘হঠাৎ কইরা দেখলাম, আমার দাম বাইড়া গেছেগা। আমি জামায়াতে যোগদান করায় বিএনপির বন্ধুরা প্রচুর লেখালেখি করতাছে। আমি শুকরিয়া জানাই, ধন্যবাদ জানাই।
আমি যে দলের একটা মোটা খুঁটি আছিলাম, তারা বুঝতে পারছে। আমি তো চলে আসিনি। আপনারা আমাকে বের করে দিয়েছেন। কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানেও আমাকে দাওয়াত দিতেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদি আমার কোনো কথা জামায়াতের জন্য কষ্টকর হয়, আমি বলব না। জবান কেটে ফেলব, জিভ কেটে ফেলব। কারণ তারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছে।
আমি একা না।’ আখতারুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘জামায়াতের প্রতি যদি আস্থা-বিশ্বাস রাখতে পারি, সারাদেশ নিরাপদ। কোনো অশান্তি হবে না।’ তিনি সভায় পার্শ্ববর্তী দিয়াকুল এলাকার গোপাল বর্মণ নামের একজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।
গোপাল বর্মণ আগামী দিনে শান্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির শোকসভাও করা হয়েছে। সভায় জামায়াতের নেতা মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও শফিকুল ইসলাম মোড়লও বক্তব্য দেন।
তারা আখতারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তিনি জীবনবাজি রেখে যে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, ৫৪ বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আগামী দিনে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। সভায় কয়েকশ লোক অংশ নেন।
জামায়াতে ইসলামীও মোটরসাইকেল বহরসহ একটি মিছিল নিয়ে সভায় যোগ দেয়। আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগদানের আগ পর্যন্ত পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন।

