মোঃ হাছনাইন
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি


ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা বর্তমান সরকারের বহু অর্জনকে ম্লান করে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।


শনিবার (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাজধানীর বুকে দিবালোকে গুলি করে ওসমান হাদীকে হত্যার চেষ্টা করার ঘটনার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখনো মূল হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের ঘটনা স্পষ্টভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।


তিনি বলেন, “রাজধানীর বুকে প্রকাশ্যে গুলি করার পরও একজন অপরাধী দীর্ঘদিন ধরে আইনের আওতার বাইরে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৫৫ বছরের একটি প্রশাসনকে একজন অপরাধী এভাবে ফাঁকি দিতে পারবে—এটা কল্পনাও করা যায় না।”


মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ওসমান হাদীর জানাজা ও শোকপালনের ক্ষেত্রে সরকারকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও কাব্যিক ভূমিকা রাখতে দেখা গেলেও, অপরাধীদের ধরতে সরকারের সেই তৎপরতা চোখে পড়ছে না। অথচ আসন্ন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে এবং আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপশক্তিকে দমন করা অত্যন্ত জরুরি।


বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যার জানাজার নামাজে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী, সেনাপ্রধানসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন—তার হত্যাকারীকে ধরতে কেন জনগণকে রাজপথে নামতে হবে? পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীতে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে—সেগুলো কোথায়?”


তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো সক্রিয় থাকলে আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।


মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের মনে আস্থা সৃষ্টি করা। অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে মানুষ রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারায়। আর রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারালে সমাজে নৈরাজ্য, অরাজকতা ও উগ্রতা বৃদ্ধি পায়।”


তিনি সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে। যে কোনো মূল্যে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সেজন্য দ্রুত ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।