আলামিন হোসেন
ঝিনাইদহ সদর প্রতিনিধি

‎‎ঝিনাইদহ-২ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু ২৯ ডিসেম্বর বেলা ২ টায় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এসময় সিপিবি’র জেলা কমিটির সভাপতি স্বপন বাগচী, সহকারি সাধারণ সম্পাদক সুজন বিপ্লব, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তোফাজ্জ্বেল হোসেন, জেলা সদস্য প্রভাষক শাহাদাৎ হোসেন, বায়েজিদ চাষা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।‎‎

সিপিবি নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন ব্যক্তিস্বার্থ আর ক্ষমতার পালাবদলই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে পরিবর্তনের এক নতুন বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মনোনীত প্রার্থী কমরেড আবু তোয়াব অপু।

কাস্তেমার্কা এখানে কেবল একটি প্রতীক নয়, বরং এটি শোষিত মানুষের অধিকার, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের এক হাতিয়ার। একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় যোগ্যতা তার অতীত ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। আবু তোয়াব অপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং ছাত্র আন্দোলনের পরীক্ষিত নেতা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন।‎২০০৭-এর ছাত্র বিদ্রোহ থেকে শুরু করে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—সবখানেই তিনি রাজপথে ছিলেন।

তিনি কোনো বসন্তের কোকিল নন, বরং ঝিনাইদহের মাটি ও মানুষের নেতা, যিনি বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলন এবং ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য লড়াইয়ে সবসময় অগ্রভাগে থেকেছেন। সততা ও সাহসিকতাসম্পন্ন যুবক আবু তোয়াব অপু একজন সার্বক্ষণিক রাজনীতিক, যার কোনো ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা নেই।‎‎কলা ও পানের রাজধানীখ্যাত ঝিনাইদহের কলা ও পানকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দিতে বিশেষ রপ্তানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা কেবল কাস্তে মার্কার প্রার্থীর ইশতেহারেই দেখা যায়।”‎‎সিপিবি প্রার্থী অপু বলেন,‎”ঝিনাইদহের অর্থনীতির প্রাণ হলো কৃষি।

এখানকার ৭০ ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সার, বীজ ও তেলের উচ্চমূল্য এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা আজ দিশেহারা। জিকে সেচ প্রকল্প ও আধুনিকায়নে পদ্মা নদীর পানি ব্যবহার করে জিকে সেচ প্রকল্পকে দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে সিপিবির।‎

ইলা মিত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: নাচোল কৃষক বিদ্রোহের নেত্রীর নামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ঝিনাইদহকে আধুনিক কৃষি গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ব্যবস্থা বদলের সংগ্রাম‎২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল বৈষম্য নিরসন। কিন্তু ৫ই আগস্টের পর আমরা কী দেখছি? চাঁদাবাজি, মাজার ভাঙা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা, গণমাধ্যম কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া, গার্মেন্টস বন্ধ হওয়া আর নতুন রূপে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান।‎‎

আবু তোয়াব অপু আরো বলছেন, “কেবল দুঃশাসক ঘটালেই চলবে না, একই সাথে ব্যবস্থাও বদলাতে হবে।” নির্বাচনে বিজয়ী হলে বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বেকার ভাতা নিশ্চিত করার লড়াই জোরদার হবে। বাঘা যতীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেলাবাসীর আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পৌর এলাকায় ওয়াকওয়ে, বিনোদন কেন্দ্র এবং সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ শহর গড়ে তোলা হবে।

ঝিনাইদহের অনেক বাঁওড়, বিল ও জলমহাল আজ প্রভাবশালী লুটেরাদের দখলে। ইজারা প্রথা বাতিল করে মৎস্যজীবী ও ভূমিহীনদের জন্য সামাজিক মালিকানা নিশ্চিত করা হবে। গ্রামীণ মজুরদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা এবং পেনশন স্কিম চালু করা হবে, যা মেহনতি মানুষের চিরকালীন দাবি।

ঐতিহ্য রক্ষায় মরমি কবি পাগলা কানাই, পাঞ্জু শাহ, লালন ফকির এবং বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণে আপসহীন লড়াই জারি রেখেছি। দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন নিশ্চিতকরণ, টিআর, কাবিখা ও টেন্ডারবাজির লুটপাট বন্ধ করে সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি টাকা জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করার নিশ্চয়তা, লুটপাটকারী আর সুবিধাভোগীদের হাত থেকে ঝিনাইদহকে বাঁচাতে হলে প্রয়োজন জনগণের আদর্শিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান।‎‎

ঝিনাইদহ-২ আসনের ভোটারদের কাছে এটি কেবল একজন সাংসদ নির্বাচনের সুযোগ নয়, বরং শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই।‎তাই আগামী নির্বাচনে কাস্তে মার্কায় ভোট দিয়ে শোষণমুক্ত নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঝিনাইদহ গড়ে তোলার এই মহৎ সংগ্রামে সামিল হোন।”