হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় এখন চোখ জুড়ানো সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা সরিষার বাহারি রঙ ও মৃদু সুবাস প্রকৃতিকে এনে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্য। ফুলের মোহময় গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে ভনভন করছে মৌমাছি। এই দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সরিষা খেতে ভিড় করছেন নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরীসহ নানা বয়সের মানুষ।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য সরিষা খেতে ভিড় করছেন অনেক টিকটকার। রাস্তার পাশে থাকা সরিষা খেতে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতেও পিছপা হচ্ছেন না দর্শনার্থীরা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সরিষা ক্ষেত এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২ হাজার ৭৯৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্বল্প সময়ে কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। এক বিঘা জমিতে চাষ করে খরচ বাদে একজন কৃষক প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফা পাচ্ছেন।

দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের কৃষক আলমগীর মিয়া জানান, গত বছর তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে তিনি প্রায় ২৮ হাজার টাকা লাভ করেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার চার বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নিয়মিত পরিচর্যা করছেন তিনি। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে হালচাষ থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ফলন ভালো হলে বিঘা প্রতি প্রায় ৫ মণ সরিষা পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা।

বেলকা ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে সরিষা ক্ষেত হওয়ায় প্রতিদিন শতাধিক মানুষ ছবি তুলতে আসছেন। এতে ক্ষেতের ভেতরে ঢুকে ছবি ও ভিডিও করায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরিষা খেতে পরিবার নিয়ে ছবি তুলতে আসা এনজিও পরিচালক ও সংগীতশিল্পী মজনু মিয়া বলেন, সরিষার হলুদ ফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখতে ভালো লাগে। ফুলের গন্ধ আর মৌমাছির গুঞ্জন মন ছুঁয়ে যায়। বছরে একবারই প্রকৃতি এমন রূপে ধরা দেয়।

রামজীবন ইউনিয়নের টিকটকার রেজাউল ইসলাম জানান, সরিষা খেতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে তিনি কয়েকটি টিকটক ভিডিও তৈরি করছেন। কারণ সবসময় এমন দৃশ্য দেখা যায় না।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, সরিষা একটি লাভজনক বোনাস ফসল। কম সময়ে ও কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। সরিষা থেকে ভোজ্যতেল, মৌমাছির মধু এবং জ্বালানি পাওয়া যায়। বারি জাতের সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ আবাদ হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের অসচেতন চলাচলের কারণে ফসলের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।