ইয়াসিন আলী
সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকার কথা। তবে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার আওতাধীন কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এর ব্যতিক্রম চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী প্রায় প্রতিদিনই দুপুর ২টা বা আড়াইটার মধ্যেই বিদ্যালয়ের অফিস বন্ধ করে চলে যান। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
গত ৫ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সংবাদকর্মীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। অফিস কক্ষসহ পুরো বিদ্যালয় ফাঁকা ছিল এবং সেখানে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।বিদ্যালয় সংলগ্ন কচাকাটা বহুমুখী স্কুলের এক শিক্ষার্থী জানান,আমি প্রায় প্রতিদিনই দেখি দুপুর ২টা বা আড়াইটার সময় স্কুলে তালা দিয়ে চলে যান।
অফিস সময়ের মধ্যেই স্কুল বন্ধ—এটা কি সরকারি নিয়ম?এটা কি সরকারি চাকরি।সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও কচাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—বিদ্যালয়টির তদারকি কে করছে?কার প্রশ্রয়ে দিনের পর দিন এমন অনিয়ম চলছে?
এ বিষয়ে জানতে সংবাদকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ে আসেন। তবে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত থাকেন এবং পরে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুল হাকিমকে ডেকে এনে তালা খুলতে নির্দেশ দেন।
বিদ্যালয় নির্দিষ্ট সময়ে পূর্ব বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তিনি দাবি করেন,আমাদের স্কুল নিয়ম অনুযায়ীই খোলা ও বন্ধ করা হয়।
তিনি আরও বলেন,এছাড়া শীতের কারণে মাঝে মাঝে সকালেই ছুটি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।অন্যদিকে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুল হাকিম প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
পরে তিনি বলেন,প্রধান শিক্ষকের বাসায় মিলাদ এবং পাশেই ওয়াজ মাহফিল চলছে,সেখানেই সব শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।শিক্ষকদের মোবাইল নম্বর জানতে চাইলে তিনি ফোন নষ্ট থাকার অজুহাতে নতুন ফোন ব্যবহারের কথা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন,বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

