ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক

গণভোটের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নে সেই নিরপেক্ষতাই মারাত্মকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের প্রশাসক প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক—ধানের শীষ—ব্যবহার করে গণভোটের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।

অভিযোগের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এই কারণে যে, অভিযুক্ত প্রশাসক কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নন; তিনি নরসিংদী সদরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমি অফিসার, অর্থাৎ একজন সরকারি কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের গণভোট ও নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের জারি করা আচরণ বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো নির্বাচনী বা গণভোট প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক প্রতীক, স্লোগান বা চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে-গণভোট আইন ও নির্বাচন কমিশনের আচরণ বিধির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে রাখা। একজন প্রশাসক কর্তৃক দলীয় প্রতীক ব্যবহার এই বিধির মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। সরকারি চাকুরী বিধিমালার স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী—সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া, প্রচারণা চালানো বা প্রতীক ব্যবহার করা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য, যার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক দায়িত্ব; একজন ইউনিয়ন প্রশাসক একই সঙ্গে ভূমি অফিসারের দায়িত্বে থেকে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার করলে প্রশ্ন ওঠে—

তিনি কি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, নাকি কোনো রাজনৈতিক পক্ষের প্রচারক?

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন—“আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সরকারি দায়িত্বে থেকে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহার গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা।”

তবে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের প্রশাসক ও সদর উপজেলা ভুমি মেজিস্ট্রেট সিনথিয়া’র হোসেনেস সাথে মুঠোফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ক্ষুদে বার্তায় প্রতিনিধিকে জানান, আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই বলেছি, এটা আমাকে না দেখিয়ে করা হয়েছে। এটা কে করেছে আমার জানা নেই। আমার ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানিয়েছেন, আমাকে না জানিয়ে কোনো ব্যানার এখনো টানানো হয়নি। সুতরাং এটার দায় যারা টানিয়েছেন তাদের। ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে সেটাও আপনাকে জানিয়েছি।”

তারা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গণভোট যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তার দায় শুধু একজন ব্যক্তির নয়—পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর বর্তায়। এখন দেখার বিষয়, আইন ও বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ কার্যকর ব্যবস্থা নেয় কি না।