
নরসিংদী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অধিগ্রহণকৃত জমির বিল গ্রহণ করতে হলে বিলের একটি অংশ (ঘুষ) দিতে হয় এল.এ শাখার কর্মকর্তাদের এমন ই একটি অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়াও নরসিংদী জেলা প্রশাসনে কর্মরত এডিসি রেভিনিউ (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মাহমুদা বেগম ও কানূনগো মোস্তফা জামান আব্বাসির বিরুদ্ধে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে অভিযোগে।
নরসিংদী পৌর শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে সামসু উদ্দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (ঢাকা বাংলাদেশ সচিবালয়-১ নং ভবনের ৩য় তলায় ২১২ নং কক্ষ) বরাবর লিখিত অভিযোগে এমনটাই দাবি করেন।
উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন।
অভিযোগ পর্যালোচনায় জানা গেছে সামসুদ্দিন অভিযোগে দাবি করেন, নরসিংদীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের জন্য কর্তৃপক্ষ নরসিংদী জেলার বিলাসদী মৌজায় এল. এ ০১/২০২০-২১ মামলা নং অনুযায়ী আর এস-৩৬৬ ও ৩৬৩ এবং ৩৬৪ নং দাগের মোট ৪২.৮৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেন।
এরমধ্যে অভিযোগকারী সামসু উদ্দিন আর এস-৩৬৬ নং দাগের মালিক হতে ক্রয়সূত্রে নামজারি জমাভাগ করে ভোগদখল করে আসছেন।এই জমিটি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করে সামসু উদ্দিন নামে এল. এ মামলা নং ০১/২০২০-২১ এওয়ার্ড বহিতে লিপিবদ্ধ করলেও এল.এ শাখার কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তার দাবিকৃত টাকা (ঘুষ) না দেয়ায় বিল তুলতে পারছিলেন না সামসু উদ্দিন। এভাবেই সময় অতিক্রম হচ্ছিল দেওয়া-নেওয়ার কসরতে;এই টাকা তুলে দেয়ার কথা বলে ভাতিজা ও ভাতিজা বৌ সামসুদ্দিনের হতে সাইন-স্বাক্ষর নেয় জমি অধিগ্রহণের দুই বছর পর।
পরে শামসুদ্দিন জানতে পারেন ভাতিজা ও ভাতিজা বৌ ১৮-০১-২০২২ তারিখে একটি ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি তার নামের বিপরীতে গ্রহণ করে যার দলিল নং-১৩৩৫ এর মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের বিলটি উত্তোলনের চেষ্টা করে। পরবর্তী বিষয়টি শামসুদ্দিন জানার পরে দলিলটি বাতিল করেন। এরপরেও এডিসি রেভিনিউ (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মাহমুদা বেগম ও কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসি প্রকৃত মালিক শামসুদ্দিনকে না জানিয়ে বিলটি ভাতিজা ও ভাতিজা বৌকে দেয়ার চেষ্টা করেন।
সামসুদ্দিন জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাননি এখনো। সেই সাথে আর. এস-৩৬৪ দাগে সরকারি জমি হওয়া সত্ত্বেও একটি মহল কর্মকর্তাদের মেনেজ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয় এবং সামসুদ্দিনসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে সামসুদ্দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ভাতিজা ও ভাতিজা বৌসহ এডিসি রেভিনিউ (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-নরসিংদী) মাহমুদা বেগম ও কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসির বিচার দাবি করেন। তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন মর্মে জানিয়েছেন।
একটি জেলার সর্বোচ্চ ব্যাক্তি যদি পক্ষপাতিত্ব করেন নীতিবহির্ভূতভাবে। তাহলে বিচারিক কার্যক্রম অবশ্যই ব্যহত হবে। সাধারণ জনগণ তখন কী করবে ? কোথায় পাবে সাধারণ জনগণ ন্যায় বিচার ? এভাবেই নীতি-আদর্শ ভূলুণ্ঠিত করে অবৈধ ফায়দা লুটতে চায় অনেকে আর তাদের সহযোগিতা করে আইনের ফাঁক-ফোকর তৈরি করছে অসাধু কর্মকর্তারা। এদেরকে আইনের আওতায় আনা খুবই প্রয়োজন। নয়তো সাধারণ জনতা আশাহত হবে ন্যায়বিচারে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.