ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক

অধিগ্রহণকৃত জমির বিল গ্রহণ করতে হলে বিলের একটি অংশ (ঘুষ) দিতে হয় এল.এ শাখার কর্মকর্তাদের এমন অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ আমার এতে। তদন্তনাধীন অভিযোগ সম্পন্ন হবার আগেই জেলা কার্যালয়, নরসিংদীতে কর্মরত কানূনগো মোস্তফা জামান আব্বাসিকে বদলির আদেশ জারি করা হয় ০৫.৪১.৩০০০.০০০.০০৯.১৯.০০০১.২৫.২৩  স্মারকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে।

একই অভিযোগে নরসিংদী জেলা কার্যালয়ে কর্মরত কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসির রাজবাড়ী কার্যালয়ে বদলি হলেও স্বপদে বহাল রয়েছেন নরসিংদীর (এডিসি রেভিনিও) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা বেগম।

একই অভিযোগে একজন বদলি হলেও অন্যজন স্বপদে বহালের কারিশমা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে নরসিংদীতে। অভিযোগকারির অভিযোগ হালকা করার জন্যই সার্ভেয়ার-কানূনগোকে বদলি করা হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

নরসিংদী জেলা প্রশাসনে কর্মরত এডিসি রেভিনিও (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মাহমুদা বেগম ও কানূনগো মোস্তফা জামান আব্বাসির বিরুদ্ধে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগটি ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তনাধীন রয়েছে। 

জানাগেছে, নরসিংদী পৌর শহরের ব্রাহ্মন্দী এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে সামসু উদ্দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (ঢাকা বাংলাদেশ সচিবালয়-১ নং ভবনের ৩য় তলায় ২১২ নং কক্ষ) বরাবর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কানূনগো মোস্তফা জামান আব্বাসিকে বদলি করেন।

সামসু উদ্দিন গত ১৬ নভেম্বর-২০২৫ তারিখে সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে তা যুগ্ম সচিব (শৃঙ্খলা-১অধিশাখা) শৃঙ্খলা-২ ১৪০৩ নং ডায়েরিতে ১৭ নভেম্বর-২০২৫ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শৃঙ্খলা-৪ ডায়েরি নং-৮৬ তে ২০ নভেম্বর-২০২৫ তারিখে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শৃঙ্খলা-২ ডায়েরি নং-৩৭৮ নম্বরে গত ১৯ নভেম্বর-২০২৫ তারিখে নথিভুক্ত হয়।

উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বরাতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে তদন্তের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ঢাকা  বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। 

উল্লেখ্য, প্রকাশিত সংবাদ ও অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, নরসিংদীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের জন্য কর্তৃপক্ষ নরসিংদী জেলার বিলাসদী মৌজায় এল. এ ০১/২০২০-২১ মামলা নং অনুযায়ী আর এস-৩৬৬ ও ৩৬৩ এবং ৩৬৪ নং দাগের মোট ৪২.৮৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেন।

এরই মধ্যে অভিযোগকারী সামসু উদ্দিন আর এস-৩৬৬ নং দাগের মালিক হতে ক্রয়সূত্রে নামজারি জমাভাগ করে ভোগদখল করে আসছেন। এই জমিটি প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করে সামসু উদ্দিন নামে এল. এ মামলা নং ০১/২০২০-২১ এওয়ার্ড বহিতে লিপিবদ্ধ করলেও এল.এ শাখার কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তার দাবিকৃত টাকা (ঘুষ) না দেয়ায় বিল তুলতে পারছিলেন না সামসু উদ্দিন। এভাবেই সময় অতিক্রম হচ্ছিল দেওয়া-নেওয়ার কসরতে;এই টাকা তুলে দেয়ার কথা বলে ভাতিজা ও ভাতিজা বৌ সামসুদ্দিনের হতে সাইন-স্বাক্ষর নেয় জমি অধিগ্রহণের দুই বছর পর।

পরে শামসুদ্দিন জানতে পারেন, ভাতিজা ও ভাতিজা বৌ গত ১৮-০১-২০২২ তারিখে একটি ভুয়া পাওয়ার অব এটর্নি তার নামের বিপরীতে গ্রহণ করে যার দলিল নং-১৩৩৫ এর মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণের বিলটি উত্তোলণের চেষ্টা করে। পরবর্তী বিষয়টি শামসুদ্দিন জানার পরে দলিলটি বাতিল করেন। এরপরেও এডিসি রেভিনিও (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) মাহমুদা বেগম ও কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসি প্রকৃত মালিক শামসুদ্দিনকে না জানিয়ে বিলটি ভাতিজা ও ভাতিজা বৌকে দেয়ার চেষ্টা করেন।

সামসুদ্দিন জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার পাননি এখনো। সেই সাথে আর. এস-৩৬৪ দাগে সরকারি জমি হওয়া সত্ত্বেও একটি মহল কর্মকর্তাদের মেনেজ করে প্রায় ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ও অভিযোগে উল্লেখ করা হয় এবং সামসুদ্দিনসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করে সামসুদ্দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি তার ভাতিজা ও ভাতিজা বৌসহ এডিসি রেভিনিও (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক-নরসিংদী) মাহমুদা বেগম ও কানুনগো মোস্তফা জামান আব্বাসির বিচার দাবি করেন। তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন মর্মে জানিয়েছেন। 

একটি জেলার সর্বোচ্চ ব্যাক্তি যদি পক্ষপাতিত্ব করেন নীতিবহির্ভূতভাবে। তাহলে বিচারিক কার্যক্রম অবশ্যই ব্যহত হবে। সাধারণ জনগণ তখন কী করবে? কোথায় পাবে সাধারণ জনগণ ন্যায় বিচার? এভাবেই নীতি-আদর্শ ভূলুণ্ঠিত করে অবৈধ ফায়দা লুটতে চায় অনেকে আর তাদের সহযোগিতা করে আইনের ফাঁক-ফোকর তৈরি করছে অসাধু কর্মকর্তারা। এদেরকে আইনের আওতায় আনা খুবই প্রয়োজন। নয়তো সাধারণ সেবাপ্রার্থী জনতা আশাহত হবে ন্যায়বিচারে। 

উল্লেখ্য, এই অভিযোগে সামসু উদ্দিন ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত সকলের বিচার দাবি করেন এবং তার অধিগ্রহণকৃত জমির সঠিক মূল্য দাবি করেন। কিন্তু এখানে কানূনগোকে বদলি করে অভিযোগ এবং অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্টদের বাঁচাতেই এমনটি করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। তাই সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি অভিযোগকারীর।