
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জাল কাগজপত্র তৈরি করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদের মামলা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। ধোপাডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. আবুল খায়ের মাহমুদ হাসান বিশ্বাস রানার বিরুদ্ধে এসএসসি পাশের ভূয়া সনদ দিয়ে চাকরি করে আসছেন এই অভিযোগে মামলা দ্বায়ের করেন বাদী মো. ছামছুল হক। মামলাটির তদন্তকারি কর্মকর্তা কঞ্চিবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. সেলিম রেজা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ফরিয়াদীর আনতি অভিযোগ অপরাধের বিষয়ে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে কারণে বিবাদীদ্বয়কে মামলা হতে অব্যাহতি প্রদানেরে আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মামলাবাজ মো. ছামছুল হক বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত বছর গাইবান্ধার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে সি আর মামলা দ্বায়ের করেন (মামলা নং ৫৩১/২৫, ধারা ৩৪১/৩৪২/৩৮৫/৪৬৭/৪৬৮/৫০৫(২) পেনাল কোড)। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশকে।
মামলা বলা হয়েছে, সহকারি শিক্ষক রানা ১৯৯০ সালে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের কামারপাড়া পিএম উচ্চ বিদ্যালয় ইনস্টিটিউশন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে সেকেন্ড ডিভিশনে পাশ করেন। তার রোল নং- সাদুল্লা-পি-৬৭৯, রেজিষ্ট্রেশন নং-১২৮২৭, সেশন-১৯৮৮-১৯৮৯। কিন্তু টেবুলেশন সীটে ওই শিক্ষকের নাম নাই। সে কারণে তার এসএসসি পাশের সনদ ভূয়া। মামলায় ওই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এবং সাবেক প্রতিষ্ঠান প্রধানের স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যয়ন পত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র দিয়ে মামলা করেন বাদী ছামছুল হক।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার স্বাক্ষী এবং ওই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষক লিখিত ও মৌখিকভাবে স্বাক্ষীদেন মো. আবুল খায়ের মাহমুদ হাসান বিশ্বাস রানা ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছাত্র ছিল। তার পরীক্ষা পাশের যাবতীয় কাগজপত্র প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষা বোর্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। বাদী ছামছুল হক ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের স-সীলমোহর জাল করে মামলটি করেছেন। এছাড়া মামলার ছয়জন স্বাক্ষী এই মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না মর্মে স্বাক্ষী দিয়েছেন।
তদন্তকারি কর্মকর্তা মামলটির অধিকতর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছরের ১১ নভেম্বর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর ওই শিক্ষকের এসএসসি পাশের সনদসহ যাবতীয় কাগজপত্রে সঠিক তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। শিক্ষা বোর্ড গোপরীয় শাখা এবং স্টোর রুম থেকে ওই শিক্ষকের এসএসসি পাশের যাবতীয় কাগজ পত্রের তথ্য সরবরাহ করেন। কাগপত্রের দৃষ্টে প্রতিমান হয়েছে, ওই শিক্ষকের এসএসসি পাশের সনদ সঠিক।
তদন্তকারি কর্মকর্তা বলেন, বাদী ও ফরিয়াদীর বাড়ি একই এলাকায়। তাদের উভয়ের মধ্যে সামাজিক বিভিন্ন কারণে দ্বন্দ্বসহ একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিহিংসামুলক ভাবে এই মামলাটি আনায়ন করেন।
সহকারি শিক্ষক রানা বলেন, এই মিথ্যা মামলার কারণে তিনি সমাজে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। সমাজের এহেন অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সুদৃষ্টি একান্ত কাম্য।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.