হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১২দিন বাকী। সেই তুলনায় গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের ভোটের মাঠে নেই কোন আমেজ। পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররা এখনো মুখ খুলছেন না। নিজ নিজ দলীয় নেতাকর্মী ও একান্ত সমর্থকগণের মাঝে ভোটের কথা মাঝে মধ্যে শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনী পথসভা, উঠান বৈঠক, নির্বাচনী শো-ডাউন ছাড়া মাঠে-ময়দানে, হাট-বাজারে, রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানে ভোট নিয়ে কোন আলোচনা নেই বললেই চলে। বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জের এবং উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর চরাঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের মাঝে নেই ভোটের আমেজ। সেই সাথে হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য ভোটাররা মুখ খুলছেন না। 

উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলসহ গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিরে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন নাই কাকে ভোট দিবেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে পৌরসভার একজন সাধারণ ভোটার বলেন, যদি ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মত পরিবেশ থাকে, তাহলে ভোট দিব, কাকে দিব তা বলব না। আর যদি পরিবেশ না থাকে তাহলে ভোট কেন্দ্রে যাব না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত শুধু মাত্র জামায়াতের কর্মীরা ভোট চাইতে এসেছিল। আর কোন দলের কর্মীরা আজও ভোট চাইতে আসে নাই। 

তারাপুর সাধারণ ভোটার মোনারুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনের পর থেকে জামায়াতের প্রার্থী  নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে ছুঁটে বেড়াচ্ছেন সব সময়। অন্য কোন দলের লোকজন সেইভাবে ভোট চাচ্ছেন না। এই আসনে জামায়াতের সাথে লড়াই হবে অন্য দলের। জামায়াতের নেতাকর্মী, সমর্থকগণ হাট, ঘাটে, মাঠে ময়দানে গিয়ে ভোট সংগ্রহ করেন না। তারা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি ও হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপির প্রার্থী ডাক্তার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী একজন ভাল মানুষ। কিন্তু ওনি প্রার্থী হিসেবে নতুন। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা না থাকলে ভোটের মাঠে আমেজ তৈরি করতে পারাটা খুব কঠিন। তাছাড়া সুন্দরগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির মধ্যে একটা মতবিরোধ রয়েছে। সবমিলে ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন সাধারণ ভোটাররা। সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পারলে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বেলকা ইউনিয়নের জাতীয় পাটির সমর্থক আব্দুল কাদের বলেন, জাতীয় পাটির মহাসচিব একজন ভাল মানুষ, এতে কোন সন্দেহ নাই। সেই সাথে তিনি উত্তরজনপথ তথা গোটা দেশের একজন পরিচিত মুখ এবং সুন্দরগঞ্জের মানুষের গর্ব। তবে তার কিছু ত্রুতি রয়েছে, এটি অস্বীকার করার কিছু নেই। কাজ করলে ভূল হবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় পাটির কিছু নিবর ভোট রয়েছে, যদি ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ারমত পরিবেশ পায় তাহলে জয় নিশ্চিত। তবে লড়াই হবে জামায়াতের সাথে। 

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন সরদার কিছু নারী ভোটারের সমর্থন নিয়ে মাঠে মাঠে গিয়ে কাজ করছেন। তিনি জাতীয় পাটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ছিলেন। ইতোমধ্যে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন তিনি জাতীয় পাটির মহাসচিবের সাথে থাকলে তার ভবিষত ভাল হত। যেহেতু তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন।   

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। কিন্তু মাঠে প্রচার- প্রচারণায় রয়েছেন মুলত চারজন প্রার্থী। এর মধ্যে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন সরদার, পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মো. কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), মোছা. ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), মো. রমজান আলী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।