ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক

নরসিংদী-১ (সদর–মাধবদী) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসককে প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট শিরিন শেলী।

তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (RPO) এর ধারা ৯১ক এবং সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮ অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী নির্ধারিত নিয়মের বাইরে প্রদর্শন সম্পূর্ণ বেআইনি।

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নরসিংদী-১ আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনার আশপাশ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় জায়গায় জায়গায় রঙিন পোস্টার লাগানো রয়েছে, যা প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন।

এডভোকেট শিরিন শেলী অভিযোগ করেন,

“জেলা প্রশাসনের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পিআরও (Public Relations Officer) নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকলেও, এসব বেআইনি পোস্টার অপসারণ কিংবা বিষয়টি গণমাধ্যমে সঠিকভাবে অবহিত করার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন,

“সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ৫, ৬ ও ৭ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকদের দ্বারা অবৈধ পোস্টার, ব্যানার বা রঙিন প্রচারসামগ্রী প্রদর্শিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনগত বাধ্যবাধকতা। এখানে পিআরও’র নীরবতা প্রশাসনিক পক্ষপাতেরই ইঙ্গিত দেয়।”

তিনি বলেন,

“বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান। কিন্তু যখন একটি পক্ষের রঙিন পোস্টার প্রকাশ্যে ঝুলে থাকে আর অন্য পক্ষকে বাধা দেওয়া হয়, তখন তা সরাসরি সাংবিধানিক সমতার পরিপন্থী।”

এডভোকেট শিরিন শেলী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,

“জেলা প্রশাসক নির্বাচন কমিশনের অধীন দায়িত্ব পালন করেন (সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ)। পিআরওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যদি কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি কার্যকর করতে ব্যর্থ হন, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”

তিনি অবিলম্বে অবৈধ রঙিন পোস্টার অপসারণ, পিআরও’র মাধ্যমে নিরপেক্ষ তথ্য প্রচার এবং সকল প্রার্থী ও প্রতীকের জন্য সমান আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান। অন্যথায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রয়োজনে হাইকোর্টে রিট আবেদনসহ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

গণ অধিকার পরিষদের এই প্রার্থী বলেন,

“ভোটের মাঠে প্রশাসন ও পিআরও যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে—বাস্তবে নয়।”