মোঃ আশিকুর রহমান
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

 হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া গণ এনজিও নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তৈয়ব আলী। এই ঘটনা ঘটে উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া ও শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামের তৈয়ব আলী ও জলসুখা ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী মোনালিছা বেগম মিলে ‘গণ এনজিও নাম করে প্রতারণা করেছেন।

তারা ১১ হাজার টাকায় ১ লাখ টাকার লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা লোন না পেয়ে তৈয়ব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “দেই দিচ্ছি” বলে টালমাটাল করতে থাকেন।

গ্রাহকরা দীর্ঘদিন টাকা না পেয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জলসুখার কয়েকজন নারী ও পুরুষ বানিয়াচং নতুন বাজার থেকে প্রতারক তৈয়ব আলীকে আটক করেন। তাঁকে সিএনজিতে নিয়ে আসার সময় তৈয়ব পালানোর চেষ্টা করলে সিএনজি উল্টে যায়, এতে পাঁচজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে দুইজন গুরুতর। একজন হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং আর একজন সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রতারক তৈয়ব আলীকে জলসুখা ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া, পুরুক মিয়ার বাড়িতে দুই দিন ধরে আটক রাখা হয় যাতে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পেতে পারেন। এ বিষয়ে তৈয়ব আলী দাবি করেন, তিনি জলসুখা এলাকায় ঋণ দেয়ার কথা বলে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এছাড়া শিবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিমবাগ গ্রামের তিনজনের কাছ থেকেও তিনি টাকা নিয়েছেন। তার দাবি, পাটুলীপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী মোনালিছা বেগমের কাছে ওই টাকা সংরক্ষিত রয়েছে এবং সেই অফিসঘর তৈরিতেও তার ভূমিকা রয়েছে।

অপরদিকে, মোনালিছা বেগম জানান, তিনিও এই এনজিওর সদস্য হয়ে ২২ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিয়েছেন ২ লাখ টাকার ঋণ নেওয়ার জন্য। তিনি নিজেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এছাড়া তৈয়ব আলী তাকে ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।গ্রামবাসীর সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরের খালাতো ভাই প্রতারক তৈয়ব আলীর সঙ্গে মোনালিছা বেগমের সম্পর্ক দেবর-ভাবি।

শিবপাশা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আইয়ব আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, ঘটনা সত্য: পশ্চিমবাগ থেকে তৈয়ব আলী অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জলসুখা আটক রয়েছে, প্রতারক তৈয়ব আলীর বাড়ির লোকদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আকর হোসেন মুঠোফোনে জানান, প্রতারকের খবর পেয়ে তাকে থানায় এনে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।