নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদী শিবপুর উপজেলাধীন কুমরাদী গ্রামে ফলন্ত  কলাবাগান কেটে ফেলায় প্রায় দুই লক্ষ টাকার ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেন এর ছেলে বিল্লাল হোসেন ও লোকমান হোসেন এর বিরুদ্ধে এবং এটা নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল-২০২৫ তারিখে শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলাও হয় অভিযুক্ত বিল্লাল মিয়া ও লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে।

মামলার নথি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন ও লোকমান হোসেনের বাড়ির পাশেই আবদুস সাত্তার কলা বাগান করেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তদ্বয় প্রথমে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ফলন্ত (কলার কাদি আছে এমন কলা গাছ) কলা বাগান কেটে উজাড় করে ফেলে।

এলাকাবাসীকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলে অভিযুক্তদ্বয় স্বীকার করে কলা বাগান কাটার বিষয়টি। স্থানীয় পর্যায়ে মিমাংসা না করতে পারায় এটা থানায় গড়ায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিবপুর থানায় মামলা হয়; ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আবারো কলাবাগানে হামলা চালায় এবং আবারো প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ হাজার) হাজার টাকার কলাগাছ কেটে ফেলে।

অভিযোগে বলা হয়, বিল্লাল হোসেন ও লোকমান হোসেন জমির মালিক আবদুস সাত্তার জমিতে কাজ করতে গেলে উভয়ে সম্মিলিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ক্ষেতের মালিক মো. আবদুস সাত্তার মিয়ার উপর আক্রমণ করতে চেষ্টা করে ফলে আ. সাত্তার মিয়ার চিৎকার ও চেচামেচিতে লোকজন ছুটে আসলে তারা আ. সাত্তার মিয়াকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে পালিয়ে যায়।

পরে জমির মালিক আ. সাত্তার শিবপুর মডেল থানার  অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করলে মো. লোকমান হোসেন বিদেশে পালিয়ে যায় এবং প্রবাস হতেই আবদুস সাত্তারকে ক্ষতি করতে দূর্বৃত্ত ভাড়া করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে অবিরত।

সরেজমিনে বিল্লাল মিয়ার বাসা শিবপুর উপজেলাধীন কুমরাদি গ্রামের বাড়িতে গেলে অভিযুক্তরা গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়ে পালিয়ে যায়। অভিযুক্তদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযুক্ত বিল্লাল উরুফে বিলুর ছেলে সুজনের সাথে মোবাইলে কথা বললে সে ফোন কোন ধরনের কথা বলতে রাজি নয় বলে জানিয়ে দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত আবদুস সাত্তার জানান, আমার বাড়ি হতে আধা কি.মি. দূরে বিল্লাল মিয়ার বাড়ির পাশেই আমার কলাবাগান! প্রায় ৩ যুগ ধরে আমি বিল্লালের বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা ও ফুফু এবং চাচা কিনে ভোগদখল করে আসছি। ইদানিং সে আমার জমিতে ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে; এলাকার মুরুব্বিরা জিজ্ঞেস করলে স্বীকার করে কলাগাছ কাটার কথা।

এটা এলাকায় মিমাংসা না হওয়ায় আমি শিবপুর থানায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারায় মামলা করি গত ২৯ এপ্রিল-২০২৫ তারিখে। 

ইদানিং প্রায় ৭ মাস পরে ৫ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ তারিখে আবার কলাবাগান বিল্লাল হোসেন এবং তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, লোকমান হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম ও রাবেয়া বেগম সম্মিলিতভাবে কেটে ফেলে যার আনুমানিক মূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা। পরে আমার ছেলে তুহিন মিয়া বাদী হয়ে মামলা করে।

গণমাধ্যম প্রতিনিধি প্রবাসী লোকমান বাসায় গেলে তার স্ত্রী অভিযুক্ত ঝর্ণা বেগম সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যান। ফলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি; পার্শ্ববর্তী বাড়িতে এই বিষয় জানতে চাইলে তাদের কাছ হতেও এমনি করে জমি বিক্রি করে এক লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এদের বিরুদ্ধে থানায় কয়েকটি মামলা হয়।

এলাকার অনেকে তারা এভাবেই জিম্মি করে মানুষের কাছ হতে টাকা আদায় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগের দাবি করেন। তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে এলাকাবাসীর জুর দাবি।