ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়ে বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের এমপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দীর্ঘস্থায়ী দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের পর থেকে দীর্ঘ ৩০ বছর পর আসনটি আওয়ামী লীগের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করল বিএনপি।
সম্প্রতি রায়পুরা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ আসনে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির আবদুল আলী মৃধা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় তিন দশক আসনটি আওয়ামী লীগের রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর দখলে ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই বিশাল ব্যবধানে জয় রায়পুরায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

বিজয়ের পর এক বার্তায় ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন—
“নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের প্রিয় ভাই, মা ও বোনেরা, আশা করি ভালো আছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদিন কঠিন পরিশ্রমের ফলে আমি অনেক অসুস্থ হয়ে যাই, যার ফলে অনেকের সাথেই কথা বলতে পারিনি। যাই হোক, আল্লাহর রহমতে এখন একটু ভালোোর দিকে। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

এ নির্বাচনে আপনারা আমার জন্য মন-প্রাণ দিয়ে বিজয়ের জন্য কাজ করেছেন। আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সহযোগিতা আমাদের বিজয় আনতে অনেক সহজ হয়েছে। আমার দল ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমার প্রিয় ভোটার ও সমর্থকদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি যাতে আপনাদের এই সম্মান রক্ষা করে রায়পুরার প্রতিটি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করে এবং সকলের মাঝে উন্নয়নের রূপকার হিসেবে সঠিক দায়িত্ব পালন করে অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি—এটাই আমার প্রত্যাশা।

উল্লেখ থাকে যে, কেউ যাতে আমাদের এই বিজয়কে নষ্ট করতে না পারে, তাই সকলে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেয়। কেউ যদি আইন হাতে তুলে নেয়, তাকেই সব দায়দায়িত্ব বহন করতে হবে। কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে অথবা আমার সাথে তোলা ছবি দেখিয়ে কোনো প্রকার বেআইনি কাজ করে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক কথায়, আইনের শাসনের প্রতি আমরা সবাই শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।

গত ১২ তারিখ নির্বাচন উপলক্ষে আমি রায়পুরার প্রতিটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে সবার সাথে দেখা করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেছি। কিন্তু নির্বাচনকালীন প্রচারণার একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়ার কারণে হয়তো সকলের কাছে যেতে পারিনি। যাদের কাছে যেতে পেরেছি, আপনারা আমার সাথে হাসিমুখে কথা বলেছেন। অনেক সময় হয়তো আমি আপনাদের প্রত্যাশা মোতাবেক আবদার রক্ষা করতে পারিনি, আপনাদের মনে কষ্ট থেকেও থাকতে পারে।

কৃষকের ঘামে ভেজা মাঠ, মায়ের চোখের জল, যুবকের বেকারত্বের দীর্ঘশ্বাস—সবই আমি দেখেছি। তবুও আমার প্রিয় মানুষগুলো বুক ফুলিয়ে সাহস নিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। যাওয়া-পাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে নিঃস্বার্থভাবে আগামী দিনের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কষ্ট হলেও হাল ছাড়েনি। তারা নিরাশ না হয়ে শক্ত মন নিয়ে আশা ছাড়েনি—এইটাই রায়পুরাবাসীর সবচেয়ে বড় পরিচয়। বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে ভোটযুদ্ধে জয় হয়েছে।
আমি ক্ষমতার পরিচয় দিয়ে নয়, ভালোবাসার প্রিয় মানুষ হিসেবে সকলের পাশে থাকতে চাই।

আপনাদের কাছে শুধু একটি অনুরোধ—রায়পুরার আগামীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সবার ভাবতে হবে। কিভাবে রায়পুরা থেকে মারামারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ছিনতাই, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, নারী নির্যাতন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়—সেজন্য ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এলাকা থেকে সকল প্রকার নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।

আপনারা বিশ্বাস রাখুন, আপনারা পাশে থাকলে কোনো অপশক্তি জনগণের ক্ষতি করতে পারবে না। আপনারাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বিগত দিনগুলোতে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা কোনোদিন ভোলার নয়। আপনাদের কাছে আমি চিরঋণী। মানবিক রায়পুরা গড়ে তোলার জন্য আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।”

রায়পুরায় দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের এই বিজয় এখন নতুন প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে স্থানীয় জনগণের মাঝে।