নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও তার ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদীর স্থানীয় এক ফটোগ্রাফার আশরাফুল ইসলাম রোহান এর বিরুদ্ধে। পরে গোপনে ধারনকৃত ভিডিও দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) তৎসহ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(১) ৮(২) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ অভিযোগের প্রায় ২৪ ঘণ্টা মধ্যে এসআই বাবুল অভিযান চালিয়ে নরসিংদী রেলস্টেশন সংলগ্ন খানদানি সেলুন থেকে অভিযুক্তকে আটক করেন, এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানতে পারা যায়, আসামি আশরাফুল ইসলাম রোহান, দুশ্চরিত্র প্রকৃতির লোক, নরসিংদীতে ফটোগ্রাফীর আড়ালে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের সম্পর্কের একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে, সেই শারীরিক সম্পর্কের গোপনে ভিডিও ধারণ করে নিজ সংগ্রহে রেখে পরবর্তীতে সেই ভিডিও দিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সাম্রাজ্য গড়ে করে তুলেছে নরসিংদীতে।
জানা যায়, তার রয়েছে নরসিংদীতে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র, গ্রামের সহজ সরল নারীরা প্রতারক রোহানের কাছে ছবি তুলতে আসলে সেইসব নারীদের সরতলার সুযোগ নিয়ে কৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
টার্গেটকৃত নারীদের প্রতারক রোহানের বাসা ও নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে এবং ধারণকৃত ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করে মোটা অংকের টাকা চাওয়া হয়, প্রতারক চক্রের দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ও নিকট আত্মীয় এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।প্রতারক রোহান নরসিংদী সদর থানাধীন নজরপুর ইউনিয়নের আলীপুর, দিলারপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, উক্ত ধর্ষনের বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়, পরে আমরা নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করি।
আসামি আশরাফুল ইসলাম রোহান ধর্ষনের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়, পরবর্তীতে আমরা আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করি। মামলাটি এখন বর্তমানে তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে।

