
পবিত্র মাহে রমজান এলেই বেড়ে যায় মাছ, মাংস, কাঁচাবাজারের সবজিসহ মুদি দোকানের বিভিন্ন পণ্যের দাম। সারাদিন পানাহারমুক্ত থেকে রাতে একটু ভাল খাবারের আশায় বাজারে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উদ্ধমুখী দেখে নিম্ন ও মাধ্যম আয়ের সাধারণ ক্রেতাগণ বিমুখ হয়ে ফিরে আসছেন। এক শ্রেনির অসাধূ ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে এসব পণ্যের দাম বেড়ে দেয়, অভিযোগ অনেকের। প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং এর দাবি সাধারণ ক্রেতাদের।
সারাদিন অটোরিক্সা চালিয়ে যে টাকা রোজগার হয় তা দিয়ে কোনমত চাল, ডাল, লবণ, তেল কেনা যায়। ভরা মৌসুমে কাঁচা বাজারের যাওয়ার মত সাধ্য নেই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেকের। মাছ, মাংস, ডিম, ও দুধ তো দুরের কথা। পৌরসভার অটোচালক শাহ আলম মিয়া বলেন রমজান মাসে ভাল খাবার কোন সুযোগ নেই। তার ভাষ্য যে হারে প্রতিদিন সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েই চলছে, তাতে করে মাসে একদিনও মাছ এবং মাংস কেনা সম্ভব হবে না।
চাঁন্দের মোড়ের বাজারে আসা ৮০ বছর বয়েসের জাহেদুল শেখ বলেন, এক কেজি আলু কিনে ছিলাম ২৫ পয়সায়, বেগুন ২০ পয়সা, পটল ১৫ পয়সা, মরিচ ৩০ পযসা, পেঁয়াজ ২০ পয়সা। আজ ভরা সেই আলু কিনতে হচ্ছে প্রতি কেজি ১২ হতে ২০ টাকা, বেগুন ৪০ হতে ৬০ টাকা, মুলা-৬০ টাকা, কুমড়া ৬০ টাকা, করলা ৬০ হতে ৮০ টাকা, মরিচ ১২০ হতে, পিয়াজ ৫০ হতে ৬০ টাকা, সিম ৩০ হতে ৪০ টাকা, শশা ৭০ হতে ৮০, কফি ৩০টাকা দরে। তার ভাষ্য সেই দিনগুলো কোথায় গেল। এ ভাবে চলতে থাকলে আমরা গরীব মানুষ কিভাবে বাজার করব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরুর মাংস, ছাগলের মাংস, মুরগী, মাছের দাম গত এক সপ্তাহের চেয়ে ১০ হতে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। এছাড়া মুদি দোকানে সেমাই, চিনি, বুট, বুনদিয়া, খেজুর, মুড়ি, চিড়া, বাদাম, কলাসহ প্রতিটি পন্যের দাম রমজান উপলক্ষে বেড়ে গেছে। সাধারণ ক্রেতাগণ বাজার মনিটরিং এর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সবজি না থাকার কারণে প্রতিটি কাঁচা মাল জেলার বাহির থেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। সে কারণে কাঁচা বাজারের প্রতিটি সবজির দাম একটু বাড়তি। বর্তমানে বাজারের যেসব সবজি দেখা যাচ্ছে তার সবগুলো রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর থেকে নিয়ে আসা। সুন্দরগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সাবেদ আলী বলেন স্থানীয়ভাবে শুধু সামান্য বেগুন, আলু, সিম, কফি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে পরিবহন খরচের কারণে সবজির দাম একধাপ বেড়ে গেছে।
উপজেলার দহবন্দ গ্রামের সবজি চাষি হামিদুল ইসলাম বলেন, হাল চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার এবং দিন মজুরের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদীত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তা না হলে লোকসান গুনতে হবে। আরদদার এবং পাইকাররা কৃষকের নিকট থেকে ক্রয় করার পর কারসাজি করে বেশি দামে বিক্রি করছে। সে কারণে খুচরা ক্রেতাগণকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।
মুদি দোকানদার কেশব চন্দ্র বলেন, ডিলারদের নিকট থেকে যে হারে ক্রয় করি, কিছু লাভ নিয়ে তা বিক্রি করি। ডিলাররা দাম বাড়ালে তো আমাদের করার কিছু নেই। কোন পণ্যের চাহিদা দেখা দিলে দাম একটু বেড়ে যায়।
দ্বিগুনহারে পরিবহন খরচ দিয়ে জেলার বাহির হতে সবজি নিতে আসতে হয়। সে কারণে প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ হতে ১০ টাকা বেশি নিতে হচ্ছে বলেন পাইকার আসাদুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পর্ণ্যের কোন পরিবহন খরচ হয় না। এসব কারণে সবজি দাম একটু বেশি।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, রমজানে সকলকে সহশীল থাকতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যে বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা হবে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.