বিজয় কর রতন
অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম এলাকার নির্মাণাধীন বাধাঘাট ব্রীজ দিয়ে জোরপূর্বক গাড়ি দিয়ে চলাচল করতে ব্রীজের ঠিকাদারের ম্যানেজারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকিদাতা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাককে আজ ২৮ শেষ ফেব্রুয়ারি দল থেকে বহিষ্কার করেছে ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে এই হুমকির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।ছড়িয়ে পড়া অডিওটিতে শোনা যায়, ছাত্রদল নেতা মোস্তাক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ঠিকাদারের ম্যানেজারকে শাসাচ্ছেন।
এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “ব্রীজ ভাঙলেও গাড়ি যাইব, গাড়ি ছাড়!”। ঠিকাদারে ম্যানেজার যখন কাজ চলমান থাকার কারণে গাড়ি চলাচলে অপারগতা প্রকাশ করেন, তখন মোস্তাক তাকে এলাকা থেকে “তুলে নিয়ে যাওয়ার” এবং “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন।অডিওতে মোস্তাককে বলতে শোনা যায়, “তুই আমার এলাকায় থাকস, আমার এলাকায় খাস… কাজ চলতাছে না কি চলতাছে হেইডা আমি দেখতাম না।
গাড়ি ছাড়বি, না হয় তোরে একবারে টুডি (ঘাড়) ধইরা নিয়া যামু।”অন্যপ্রান্তে ঠিকাদারের ম্যানেজারকে বলতে শোনা যায়, কাজ চলাকালীন ব্রীজ দিয়ে গাড়ি চললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং ব্রীজের ক্ষতি হতে পারে। তবে মোস্তাক সেই যুক্তি তোয়াক্কা না করে বারবার তাকে গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার হুমকি দিতে থাকেন।এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে উন্নয়নকাজে বাধা এবং ঠিকাদারের ম্যানেজারকে হুমকির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।এই বিষয়ে জানতে আল মাহমুদ মোস্তাককে মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।এবিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের ম্যানেজার রাকিব বলেন, আমরা এখানে উন্নয়ন মূলক সরকারি কাজ করতে আইছি।
আমরা শ্রমিক অইলেও (হলেও) এই এলাকার মেহমান আমরারে (আমাদেরকে) এভাবে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা বা হুমকি দেওয়ার বিষয় আমাদেরকে খুব কষ্ট দেয়। পরিবার, ছেলে, মেয়ে রাইক্কা (রেখে) আসছি এখানে কাম (কাজ) করার জন্য। কাম (কাজ) কইরা ছেলে মাইয়ার মুখে খাওন (খাবার) তুলে দিমু। এখন যদি স্থানীয় নেতারা আমরারে হুমকি দেই তাইলে তো আমরা কাম (কাজ) করতে পারমু না।
কাম করতে আইসা নিজের জীবন হুমকিতে আছে। এহন ঠিকাদারকে জানাইছি দেহি (দেখি) উনি কি করে।এবিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক তিতুমীর হোসেন সোহেল বলেন, কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন চ্যানেলে ভাইরাল হলে বিষয়টি আমি অবগত হয়। তারপরে আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে উক্ত কল রেকর্ডের সত্যতা পায়।
একজন সদস্য সচিবের এমন আচরণে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল মাহমুদ মোস্তাক এর এমন কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে তার বিষয়ে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

