
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিএনপি জোটের জন্য সম্ভাব্য প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসনের বিপরীতে ত্যাগী, নির্যাতিত, শিক্ষিত ও পরীক্ষিত নেত্রীদের খোঁজে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব মনোযোগী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন রহমান পপির নাম। দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণে তাকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পুবাইল ও বাড়িয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী একেএম ফজলুল হক মিলনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন পপি। মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌর ৫ নং ওয়ার্ড বালীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নাসরিন রহমান পপি, রাজনৈতিক ভাবে সম্পৃক্ত একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তার দাদা মো. নজম উদ্দিন ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য। বাবা মো. হাবিবুর রহমান থানা বিএনপির সাবেক ক্রীয়া সম্পাদক এবং ছোট চাচা মো. আফাজ উদ্দিন আফাজ কালীগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ফলে পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। ছাত্রজীবনে তিতুমীর কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন পপি। তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে বিভিন্ন সময় হামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার জীবনে।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার বাসায় হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তার পরিবার দীর্ঘদিন হয়রানির শিকার হয়েছে, যা এলাকাবাসীর কাছেও পরিচিত একটি ঘটনা। দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ছিলেন পপি। ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর ঢাকার পল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশে পুলিশের হামলার পর ঘোষিত হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে থেকে অংশ নেন। এছাড়া সাম্প্রতিক জুলাই-আগস্ট আন্দোলনেও মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ৫ই আগস্ট জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সকাল থেকেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ সম্পর্কে নাসরিন রহমান পপি বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিল, দল তাদের মূল্যায়নের কথা বলেছে। সেই বিবেচনায় আমি মনে করি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আমি একজন প্রাপ্য প্রার্থী। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয়, তাহলে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করব (ইনশাআল্লাহ)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল দল ও মহিলা দলের পাশাপাশি অতীত ও বর্তমান ছাত্রদল থেকে উঠে আসা বেশ কয়েকজন নেত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। সেই তালিকায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন রহমান পপির নামও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আসছে।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.