আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে বিভক্ত করে তেলের সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা দুর্বল করা এবং তেলসম্পদের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। খবর:আল জাজিরা
এদিকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে। তাকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী তেহরান ও ধর্মীয় নগরী কুমে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগে, যার ফলে তেহরানের আকাশে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক বিবৃতিতে বলেন, “এই হামলাগুলো আমাদের দেশকে বিভক্ত করা এবং আমাদের তেলের সম্পদের ওপর অবৈধ দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।”
যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। বড় কয়েকটি তেল উৎপাদক দেশ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় এবং যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে তেল পরিবহনে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগের দিন নিহত সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্রদ্ধা জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

