মোঃ আছাদুজ্জামান
মঠবাড়িয়ায় মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৫) নামের এক মোটরসাইকেল পার্টস ব্যবসায়ীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে, নগ্ন করে ভিডিও ধারণ ও মারধর করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে পৌর শহরের নিউ মার্কেট এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বর্তমানে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মোঃ ইসমাইল, মোঃ মনা (৪৭)কে নামীয় ও অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল বুধবার রাতেই ইসমাইল (৫০) কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করেন থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত ইসমাইল পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের মৃত সোনাই গাজীর ছেলে ও মনা দাউদখালী ইউপির চালিতাবুনিয়া গ্রামের।মামলা সূত্রে জানা যায়, মিরুখালী বাজারের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের ব্যবসায়িক কাজে ১ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল।
তার দোকানের প্রতিবেশী চা পানের দোকানী মনা তাকে সুদে ঋণ পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। গত বুধবার বিকেল সারে ৪টায় শহিদুলকে টাকা দেয়ার কথা বলে ইসমাইলের পৌর শহরের নিউ মার্কেটের বাসায় নিয়ে আসে। বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষে প্রবেশ করা মাত্রই দরজা বন্ধ করে দেয়। সেখানে আগে থেকেই ২ জন মহিলা ও ২ জন পুরুষ অবস্থান করছিল।
তারা তাকে জোরপূর্বক বিবশ্র করে ওই মহিলাদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। এরপর তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। এসময় ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।
পরে শহিদুলের কাছে থাকা নগদ ৯,৫৪০ টাকা জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। প্রাণের ভয়ে শহিদুল তার বোনের কাছে ফোন করে টাকা চাইলে তাৎক্ষণিক টাকা না দিতে পারায় আরও মারধর করে এবং ১৫০ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে দিয়ে রাত ৮টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এসময় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রাতেই একজনকে গ্রেফতার করেছেন। বাকী অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

