
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালীয়া ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামের সন্তান প্রবাসী উদ্যোক্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দীর্ঘ ২০ বছরের কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শূন্য হাতে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া ভিত্তিক ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তিনি। তার এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী।
অভাব-অনিশ্চয়তার কঠিন সময় পেরিয়ে গড়ে ওঠা তার এই সাফল্যের গল্প আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। জীবনের সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সাইফুল ইসলাম বলেন,“একসময় আমার কিছুই ছিল না। অনেক কষ্ট করেছি, সংগ্রাম করেছি। আজ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন।”

বর্তমানে তার ব্যবসার মাধ্যমে প্রবাসে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি সবসময় বৈধ পথে টাকা দেশে পাঠাই। এতে সরকার উপকৃত হয়, দেশের উন্নয়ন হয় এটাই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।”
তবে সাফল্যের এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতা ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে।
সাইফুল ইসলাম বলেন,“ভালো মানুষের শত্রুর অভাব নাই। কিছু দুষ্কৃতকারী সবসময় ভালো কাজের পথে বাধা দেয়। তারপরও আমি থেমে থাকিনি।”
শুধু ব্যবসায়িক সফলতা নয়, মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি প্রশংসিত। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করেন তিনি।
তার ভাষায়,“আমি চেষ্টা করি, কোনো অসহায় মানুষ যেন আমার কাছ থেকে নিরাশ হয়ে ফিরে না যায়।”
নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে তিনি বলেন,“যদি আমার মৃত্যু হয়, তারপরও আমি ভালো কাজ করে যেতে চাই। আমি চাই আমার কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হোক, গরিব-দুঃখী মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করুক।”
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বাস্তবধর্মী পরামর্শ দিয়ে বলেন,“যে সকল যুবক বিদেশে যেতে চাও, অবশ্যই আগে কোনো কাজ শিখে নাও। তাহলে ইনশাআল্লাহ তোমরাও ভালো কিছু করতে পারবে।”
দেশের উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তিনি জানান, রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে চান।
তিনি বলেন,“আগে খাল-বিল থেকে মাছ ধরতাম। এখন অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে। খাল খনন হলে আবার মাছের ঘাটতি কমবে।”
এদিকে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি প্রবাসী ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে তার ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
তিনি বলেন,“যুদ্ধ বা অস্থিরতা শুধু একটি দেশের ক্ষতি করে না এর প্রভাব পড়ে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে প্রবাসীদের জীবনে। আমরা শান্তি চাই, স্থিতিশীলতা চাই, যেন আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারি।”
প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের জন্য তার অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তার সংগ্রাম, সফলতা ও মানবিকতা আজকের যুব সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.