বিজয় কর রতন
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অষ্টগ্রাম উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হলেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে অনুপস্থিত ছিল উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আলোচনা না হলেও আজ শুক্রবার ২৭ শে মার্চ দলীয় নেতাকর্মীরা একে অপরকে দোষারোপ করায় দিনভর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠে। এ নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীরা উপজেলা নেতৃবৃন্দ কে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বুধবার (২৬ মার্চ) দিবসের প্রথম প্রহরে অষ্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপজেলা প্রশাসন, অষ্টগ্রাম থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা আনসার ভিডিপি কার্যালয়, অষ্টগ্রাম বিদ্যুৎ অফিস, হোসেনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ স্কুল এন্ড কলেজ এবং অষ্টগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
তবে এর বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো রাজনৈতিক দল, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বিশেষ করে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের শহীদ মিনারে অনুপস্থিতি স্থানীয় সাধারণ নেতৃবৃন্দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এবিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা যুবদলের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন নেতা বলেন, আজকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে না যাওয়ার কারণ হচ্ছে উপজেলা বিএনপির উদাসীনতা, আসলে দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের মূল দলের নেতারা এখন তাদের পকেট ভারী করা নিয়ে ব্যস্ত। জাতীয় প্রোগ্রাম করে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাইনা তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল এ প্রতিনিধি কে বলেন, আমরা আমাদের পার্টি অফিসে স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি এটা আমাদের রুটিন কাজ।
আর আজকের আনুষ্ঠানিকতার উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, আমরা সরকারি দল হিসেবে যেই সম্মান পাওয়ার কথা উপজেলা প্রশাসন আমাদের সেই সম্মান দেয়নি। এজন্যই আমরা আজ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যায়নি।
এবিষয়ে জানতে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা এ প্রতিনিধি কে বলেন, আমরা প্রস্তুতি মূলক সভায় সকলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশন করেই আমরা শিডিউল তৈরি করেছি, সেই সাথে আমরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সম্পাদককে দাওয়াত কার্ড পাঠিয়েছি যার রিসিভ কপি আমার কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে। এখন উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা কেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেনি সেটা আমার বিষয় না, সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মহান স্বাধীনতা দিবস জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এদিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নৈতিক দায়িত্ব। এবারের কর্মসূচিতে সীমিত অংশগ্রহণ এবং একটি বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতি সেই দায়িত্ববোধ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন তারা।

