বিজয় কর রতন
মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে অবৈধ ভাবে গ্ৰীসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশী ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই বিপর্যয়ের মধ্যে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের এক যুবক বেঁচে গেছেন তার বেঁচে যাওয়াটা শুধু আশ্চর্যজনক নয়, এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
অষ্টগ্রামের বেঁচে যাওয়া যুবক আব্দুল কাদির (২৬) উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাবিয়ানগরের গ্ৰামের বাসিন্দা। বৈবাহিক অবস্থা তিনি এক সন্তানের জনক । তার মা আম্বিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করে বাড়ির জমি ও বাসস্থানের জায়গার টাকা ও রয়েছে এর মধ্যে আব্দুল্লাপুরের দালালের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্ৰীস যাচ্ছিল। দালাল চক্র এই ১৮ জন কে ছোট নৌকায় পাঠায় । এর মধ্যে অনেকেই মারা গেছেন বেঁচে আছেন সাগরের মাঝখানে পানির সাথে যুদ্ধ করে সেই টগবগে যুবক আব্দুল কাদির। কাদিরের জীবনের এই কষ্ট স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।
অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, পুরো গ্ৰাম শোকাহত। তবে কাদিরের বেঁচে যাওয়ার খবর আমাদের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। আমরা সরকারের নিকট আবেদন করছি কাদিরের পরিবারের পাশে যেন দাঁড়ায়। আব্দুল কাদিরের পরিবার শোক এবং আতংকের মধ্যে রয়েছে। তারা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে ও চিন্তিত। তাদের আবেদন এবং ছেলেকে সুস্থ করে সেখানে কাজের ব্যবস্থা করা হোক। কারণ পরিবারের জমিজিরাত বিক্রি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। কাজ না পেলে কাদির ফেরত আসলেও তাদের পরিবার অবস্থা শোচনীয় হয়ে যাবে।
এই ঘটনায় মানব পাচারের দালাল চক্রের প্রতারণা এবং যুবকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কাদিরের বেঁচে যাওয়ার গল্প শুধু আশার আলো নয়, এটি জীবনের ঝুঁকিতে ফেলার একটি সতর্কবার্তা।
অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, আব্দুল কাদিরের বাড়িতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

