
মানবিক কাজে আবারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ। দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করা ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জ্যোৎস্না রানী সাহার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রশংসায় ভাসছেন।
জানা গেছে, কুমিল্লার গৌরীপুর উপজেলার মুজিবপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্যোৎস্না রানী সাহা জীবনের এক পর্যায়ে পরিবারসহ নরসিংদী শহরের উত্তর কান্দাপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। স্বামী নগেন্দ্র সাহার মৃত্যুর পর থেকেই নেমে আসে দুর্ভাগ্যের ছায়া। একে একে মারা যান তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান। একমাত্র মেয়ে ভারতে বসবাস করলেও মায়ের খোঁজখবর নেন না বলে জানা গেছে।
পরিবার-পরিজনহীন জ্যোৎস্না রানী গত প্রায় আট মাস ধরে নরসিংদী শহরের গোপীনাথ জিওর মন্দিরের সিঁড়িঘরের একটি কোণায় আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। ভক্তদের দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করেই চলছিল তার জীবন। সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।
বিষয়টি নজরে আসে গোপীনাথ জিও মন্দিরের সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপঙ্কর সাহা রানার। তিনি বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নেতাদের অবহিত করলে দ্রুত পদক্ষেপ নেন সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ।
গত শনিবার (৬ জুন) অসুস্থ জ্যোৎস্না রানীকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। একই সঙ্গে তার চিকিৎসা, ওষুধ ও সার্বিক দেখভালের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে জেলা ছাত্রদল।
দীপঙ্কর সাহা রানা বলেন, “অনেক দিন ধরেই দেখছি তিনি অসুস্থ অবস্থায় আশ্রমের এক কোণায় পড়ে আছেন। অবস্থার অবনতি হলে জেলা ছাত্রদলকে জানাই। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় এবং তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব গ্রহণ করে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বয়সজনিত কারণে জ্যোৎস্না রানীর কোমরে তীব্র ব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা রয়েছে। তবে বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তুহিনা বলেন, “বয়সের ভারে তিনি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
শরীরে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। হাসপাতালে আনার পর থেকে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি। এখন তিনি আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থ আছেন।”
এ বিষয়ে সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, “রাজনৈতিক কারণে আমি আমার নিজের মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারিনি। শত কোটি টাকা দিলেও আজ আমার মাকে আর ফিরে পাব না।
তাই নরসিংদী সদর ও পৌরসভার সব মায়ের বিপদে-আপদে পাশে থাকা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। মানবিক দিক থেকে একজন মাকে এভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “জ্যোৎস্না রানী সাহা সুস্থ হয়ে উঠলে জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাকে একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তার চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ দেখভালের দায়িত্ব আমরা পালন করবো।”
অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.