
কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী সরকারি সফরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মত রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সড়কপথে কিশোরগঞ্জে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর কর্মসূচি, কটিয়াদি কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অনুদান ও সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সফরের শুরুতে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করেন তিনি। পরে কটিয়াদী কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও জাতীয় মৎস্য পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিকেলে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলক উন্মোচন ও উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ২০০ বছর পূর্তি সামনে রেখে এর সার্বিক সুবিধা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ১৭ কোটি টাকার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।
প্রকল্পের আওতায় ঈদগাহ মাঠের সীমানাপ্রাচীর ও দৃষ্টিনন্দন প্রবেশদ্বার নির্মাণ, উন্নত ওজুখানার ব্যবস্থা, সংলগ্ন পুকুরের সৌন্দর্যবর্ধন এবং মাঠটিকে চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সকাল ও সন্ধ্যায় হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
শোলাকিয়া মাঠকে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ করে গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
শোলাকিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সফরকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে স্বাগত জানান এবং তার বক্তব্য শুনতে সমবেত হন।
দিনের শেষভাগে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ভাতা-অনুদান ও পুরস্কার প্রদান এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে মোট ৯৪ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, ভাতা, অনুদান ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার কর্মসূচি ছিল।
এর মধ্যে ১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড, ১৫ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিকে সম্মানী, ১০ জন জটিল রোগী, ১৭ জন প্রতিবন্ধী, পাঁচজন দুস্থ ব্যক্তি ও ১০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে অনুদান দেওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ জন সফল মৎস্য চাষিকে জাতীয় মৎস্য পদক এবং ১০ জন মৎস্য চাষিকে বিনামূল্যে মাছের পোনা দেওয়ার কর্মসূচিও ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
এ সময় দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণকে বিভ্রান্তি ছড়ানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার এবং তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.