
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুল হকের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত দিতে দেওয়া চেক ডিজঅনার হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গাইবান্ধার আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া রংপুর ও গাইবান্ধার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চেকসংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজাদুল হক একসময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শাহ রেজনাত হায়াতের দাদার নামে প্রতিষ্ঠিত শাহ ইছাফ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সুবাদে সাবেক মহাপরিচালকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি প্রচার করতেন। এই সম্পর্কের কথা বলে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন।
এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব দেওডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম মামলার বাদী হন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা তাঁর মাধ্যমে টাকা ফেরত চাইলে আজাদুল হক ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নিজের নামে সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখার একটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন। পরে চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়।
এরপর বাদী ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় গাইবান্ধার আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর সি.আর. ৮০৪/২০২৪।
অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেকাটারি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেনের সঙ্গেও আজাদুল হকের পূর্বপরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি মোজাফফর হোসেনের কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন।
নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় মোজাফফর হোসেন টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন। পরে ২০২৪ সালের ৫ মে আজাদুল হক নিজের নামে সোনালী ব্যাংকের পীরগাছা শাখার ৩৪০৮৪৮০২ নম্বর হিসাবের বিপরীতে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। চেকটি আদায়ের জন্য জনতা ব্যাংকের সুন্দরগঞ্জ শাখায় জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ২০২৪ সালের ২৩ মে ও ১৫ জুলাই তা ডিজঅনার হয়।
এ ঘটনায়ও গাইবান্ধার আমলি আদালতে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে যুগ্ম জেলা জজ পঞ্চম আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলার নম্বর সেশন ৩৪৮/২৬।
এদিকে, আজাদুল হকের বিরুদ্ধে রংপুর ও গাইবান্ধার আদালতে একাধিক চেকসংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, পীরগাছা উপজেলার পরান গ্রামের মিজানুরের দায়ের করা একটি চেকসংক্রান্ত মামলায় দায়রা ১১৩০/২২ ও সি.আর. ৭৫/২২ নম্বরের মামলায় রংপুরের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
চাকরির প্রলোভনে অর্থ নেওয়া এবং চেক ডিজঅনারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আজাদুল হকের সাথে মোবাইল-ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক- আবদুর রহমান
০১৩০৩১১২৬৭৬
Web:https://bangladeshamar.com/ Email: doinikbangladeshamar@gmail.com
Address: F-8, KA-90,JHK WINDCEL, KURIL KAZI BARI,VATARA,DHAKA-1229.
Copyright © 2026 বাংলাদেশ আমার. All rights reserved.