সম্পাদক
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার এক ইউপি সদস্য বিরুদ্ধে দোকানদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৭ মে (শনিবার) ২০২৩ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৯টায় উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে ১নং ওয়ার্ড মীরেরকিল বাজার এলাকায় করিম বক্স সিকদারের ছেলে মোঃ আইয়ুব খান সিকদার (৫৭)কে নিজ মুদির দোকানে হত্যার উদ্দেশ্যে গাছের লাঠি ও বাটাম দিয়ে হামলা চালিয়ে এলোপাতারি ভাবে মারধর করে এবং দোকান জালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অকটেন নিক্ষেপ করে, পরে দোকান ভাঙচুর করে একই এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ইসকান্দরের ছেলে মোঃ দিলদার হোসেন (৩৫) ও তার দলবল।
হামলার ঘটনা বিবরণ দিয়ে আইয়ুব খান বলেন, কয়েক বছর ধরে তার বাড়ির পাশে আমার জমি দখল করার জন্য বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রসহ অর্ধেক দামে জমি ক্রয় করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছে। জমি বিক্রয় না করায় আমাকে ক্ষতি করার নিমিত্তে বেপারোয়া হয়ে উঠে ইউপি সদস্য মোঃ দিলদার, তার রেশ ধরে ঐদিন রাত ৯টার দিকে মীরেরখিল বাজারের রবি টাওয়ারের পাশে আমার মুদির দোকানে মেম্বার ও তার দলবলসহ লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় ও এক পর্যায়ে দোকান জ্বালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে অকটেন ছুড়ে মারে।
মেম্বারের পালিত গুন্ডা বাহিনীর সদস্য একই এলাকার মনচপের ছেলে মোঃ লিয়াকত (৪০) ও জলিলের ছেলে মোঃ আলমগীর (৪৫) সহ আমার উপর হামলা চালায় এবং বারবার লাঠির আঘাতে আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলে ও আমার মাথায় এবং হাতের বাহুতে মারাত্মকভাবে জখম হয়। এইসময় আমার দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল সহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে অনুমান ৪০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং আমার ক্যাশ বক্স থেকে সারা দিনের বিক্রয়কৃত টাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে।
ঘটনার সময় আমার চিৎকার চেচামেচিতে আশে পাশের লোকজন আসলে আমি প্রাণে রক্ষা পাই। এই সময় দিলদার মেম্বার আমাকে হুমকি দিয়ে বলে মামলা মোকদ্দমা করলে সময় ও সুযোগমত আমাকে কঠিনভাবে দেখে নেবে। ভবিষ্যতে প্রাণের ভয়ে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবহিত করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।
ঘটনার সম্পর্কে জানতে ইউপি সদস্য মোঃ দিলদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, আমাকে গালি দিয়েছে যার কারণে রাগের মাথায় আমি তার ওপর হামলা করেছি এটা আমার ভুল হয়েছে। এ ব্যাপারে সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর আমাকে আইয়ুব খান ফোনে বিষয়টি জানালে আমি ইউপি সদস্য মোঃ দিলদারকে ফোন করি।
ঘটনার সত্যতা জানার পর তাকে বলেছি একজন জন প্রতিনিধি হয়ে জনগণের উপর হাত উঠানো আপনার উচিত হয়নি। দেশে বিচার আছে, প্রশাসন আছে, ইউনিয়ন পরিষদে এনে বিচারের মাধ্যমে ঝামেলার সমাধান করা যেত। এলাকার ভুক্তভোগী নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন বলেন, ইউপি সদস্য দিলদার মেম্বার হওয়ার পর থেকে সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, এলাকায় চাঁদাবাজি ভূমিদস্যু ও মারামারি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রেখেছে। আমার কাছে চাঁদা না পাওয়ায় আমাকেও দুইটা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেছিল পরবর্তীতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা ওসি মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে আমার সত্যতা দেখালে আমি কোন রকমে রক্ষা পাই। এছাড়াও তিনি উক্ত এলাকায় ব্রিক ফিল্ডে শেয়ার নেওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম হট্টগোল লাগিয়ে পরে চাঁদা দাবি করেছে।
১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, গতকাল রাত্রে ঘটনা আমি জানতে পেরেছি অসুস্থতার কারণে ওখানে উপস্থিত হতে পারিনি তবে ইউপি সদস্য দিলদার এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে এবং বিভিন্ন রকম চাঁদাবাজি ও ভূমিধস্বর কাজে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন বড় বড় নেতার ছত্রছায়ায় আছে বলে এলাকাবাসী কাছে বলে বেড়ায়। জমি জমার রেশ ধরে বিভিন্নজনকে মামলা হামলা দিয়ে আর্থিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেছে যেহেতু তিনি একজন ভূমি সার্ভেয়ের।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অভিযোগ হাতে পেয়েছি তবে এখনও মামলা হয়নি, তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। উল্লেখ্য, গত রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে হামলার ভিডিও ভাইরাল হলে সচেতন জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে উপযুক্ত বিচার করে শাস্তির দাবি করেছে। ভিডিওতে দেখা যায় ভুক্তভোগী আইয়ুব খানের দোকানে ইউপি সদস্য দিলদার দলবলসহ লাঠিসোটা দিয়ে অতর্কিতভাবে দোকানের হামলা চালিয়েছে এবং বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে পরে তরল জাতীয় কিছু দ্রব্য দোকানদারের উপর নিক্ষেপ করে।

