সম্পাদক

ফিরোজ আলম, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:

বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং, মশার উপদ্রব আর প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রামগতি বাসীর রাতের ঘুম হারাম হবার উপক্রম হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও হচ্ছে ব্যাহত। এই নিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

চলতি গরম মওসুমে টানা চার মাস ধরে লক্ষীপুর আবহাওয়ায় চরমাবস্থা বিরাজ করছে। সেই সাথে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং নগরবাসীর জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে নাকাল রামগতির মানুষ দিনে ও রাতে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। রাতের বেলা মশার উপদ্রব লেগেই আছে। পৌরসভা মশা নিধনে গৃহীত পদক্ষেপ মোটেই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছে না। মেঘলা আকাশ থাকলেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে আবহাওয়া আরো গুমোট হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে খেটেখাওয়া মানুষের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনধারা ও দাপ্তরিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

মার্চ মাস থেকে বাড়তে থাকা লক্ষীপুরের তাপমাত্রা জুনের মাঝামাঝিতে এসে চরমে পৌঁছেছে। এখনকার ভ্যাপসা গরমে নগরবাসীর অবস্থা নাকাল, কোথাও স্বস্তি নেই। সকাল ১০টার পর টেপের পানি ফুটন্ত গরম পানি হয়ে যাচ্ছে। ফলে এই গরম পানিতে গোসলসহ ব্যবহারিক কাজকর্ম করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর তাপদাহ কিছুটা কমে আসলেও তখন বিদ্যুতের লোডশেডিং মানুষের দুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুপুরের পর ক্লাসে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রচন্ড গরমের কারণে ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছে তারা। ফলে ক্লাসের পাঠে মনোনিবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ঘন্টায় গড়ে দুইবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অফিস আদালতের কার্যক্রমেও একই অবস্থা। রামগতির এই চরম আবহাওয়ায় সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া গরিব মানুষ। বিশেষ করে রিক্সা, ভ্যান চালক ও শ্রমিকদের অবস্থা খুবই করুণ। এই গরমের মধ্যে তাদের খোলা মাঠের কড়া রোদে কাজ করতে হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে বর্তমান আবহাওয়ায় রামগতিরর মানুষ অস্থির অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।