ওমর ফারুক
আলামিন হোসাইন, ঝিনাইদহ সদর প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য দিন দিনই বেড়েই চলেছে। তাদের দৌরাত্ম্যে নানা হয়রানি ও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
চিকিৎসকের কক্ষে সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও মানছেন না কেউ। রোগীরা বের হলেই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে চলে টানাহেঁচড়া। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন রুগীরা ।
বৃহস্পতিবার (০৭সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরে ও সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় লেগেই আছে। শুধু তাই নয় সারি বদ্ধ ভাবে হাসপাতালের সমনে বিভিন্ন কোম্পানির আর এম ও রিপেজেন্টিভদের দারিয়ে থাকতে দেখা যায়।
নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে তারা ভিজিট করে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন। কোনো রোগীকে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে দেখলেই ৮-১০ জন প্রতিনিধি ওই কক্ষের সামনে এবং ভেতরে ভিড় করছেন।
আবার কেউ কেউ রোগীকে অপেক্ষায় রেখে তাদের ভিজিট সেরে নিচ্ছেন। এর বাইরে প্রতিনিয়তই চোখে পড়ে এসব প্রতিনিধিদের নানান দৃশ্য।
সরকারি এ হাসপাতালটিতে রোগীরা ডাক্তারের কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের পথে দাঁড় করিয়ে ব্যবস্থাপত্র টেনে নিয়ে সেটির ছবি তুলে রাখেন। প্রায়ই দেখা গেছে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষের সামনে ভিড় করে আছেন।
সেই ভিড়ে ঠেলে চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকতে হচ্ছে রোগীদের। আবার ভেতরে প্রবেশ করলেও দেখা যায় সেখানে চলছে ভিজিট। এভাবেই প্রতিদিন সরকারি এ হাসপাতালটিতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কোম্পানির রিপ্রেজেন্ন্টেটিভ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের দুপুর একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে ডাক্তারের সঙ্গে ভিজিট করার অনুমতি দেয়। কিন্তু কোনো কোম্পানির সার্ভে থাকলে ওই কোম্পানি হাসপাতালের আরএমও বা তত্ত্বাবধায়কের কাছে ফোন করে অনুমতি নেয়, তারপর আমরা ভিজিটে আসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী জানান, আমি ডাক্তারের কক্ষে ঢুকেই দেখি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে কথা বলছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কক্ষে ঢুকে ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। বহির্বিভাগের সামনে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ফুটপাতে মিটিং করছে।
তাতেও রাস্তা চলতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। আবার সেখানেও তারা দাঁড়িয়ে প্রেসক্রিপশন নিয়ে কারাকারি করে ছবি তুলছে। অসুস্থ রোগী নিয়ে সমস্যায় থাকলেও সে বিষয়ে তাদের কোন দৃষ্টি নেই তারা আছে ছবি তুলে কোম্পানির কাছে পাঠাতে ব্যস্ত। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে প্রশাসন থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে ভুক্তভোগীরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে তার পিএ ফোন রিসিভ করে তিনি বলেন কি সমস্যা বলেন।
তাকে বিষয়টি জানালে তিনি জানান হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে তাদের ভেতরে আসার কোনো নিয়ম নেই।স্যারকে বলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

