ওমর ফারুক
মো.নূর ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের বামনেরচর গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ বোর্ডঘর এলাকা থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টার দিকে গৃহবধূ সুমি আক্তার (২০) ও তার শিশু কন্যা আবিদা (২) কে অপহরকারী আঃ কাদের (৩৮) কর্তৃক একটি সিএনজি যোগে অপহরণ করে নিয়ে যাবার ১২দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোর রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পারদা পাথারিয়া পাড়া থেকে ওই অপহৃতা গৃহবধূ ও তার শিশু কন্যাকে উদ্ধার করেছে শেরপুরের ডিবি পুলিশ।
গৃহবধূ সুমি আক্তার শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের বামনেরচর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেনের স্ত্রী ও আঃ কুদ্দুসের মেয়ে।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার বামনেরচর গ্রামের আক্রাম হোসেনের ছেলে মো. জাকির হোসেন ৬ মাস পূর্বে একই গ্রামের আঃ কুদ্দুসের তালাকপ্রাপ্ত কন্যা সুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। সুমি আক্তারের পূর্বের স্বামী আঃ কাদেরের ঔরসের ২ বছর বয়সী শিশু কন্যা আবিদাকে সুমি আক্তার তার বর্তমান স্বামী গৃহে লালন পালন করা অবস্থায় ৩ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে পূর্বের ও তালাকপ্রাপ্ত স্বামী আঃ কাদের পূর্বপরিকল্পতিভাবে একটি সিএনজিসহ বামনেরচর বোর্ডঘর এলাকায় অবস্থানকালে সুমি আক্তারের বর্তমান স্বামী জাকির হোসেনের বশতবাড়ির সম্মুখে শিশু আবিদা বের হওয়া মাত্র আঃ কাদের তাকে খাবার লোভ দেখিয়ে দাঁড়ানো সিএনজিতে উঠায়।
এদিকে শিশুটির মা এঘটনা দেখে এগিয়ে গেলে তাকেও মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক সিএনজিতে উঠিয়ে দ্রুত সিএনজি যোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে এঘটনায় সুমি আক্তারের স্বামী জাকির হোসেন অপহরণকারী আঃ কাদেরসহ অপরাপরদের আসামী করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অপহৃতা সুমি আক্তার ও শিশু কন্যা আবিদাকে উদ্ধার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন। অপহরণকারী আঃ কাদের সুমি আক্তার ও শিশু কন্যাকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এবং সর্বশেষ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তার বর্তমান স্বামী জাকির হোসেন মুক্তিপণের টাকার জন্য চাপ দেয় এবং টাকা না দেয়ায় সুমি আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
এঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেন ও সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আলমাস হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনিবার ভোর রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার পারদা পাথারিয়া পাড়া গ্রামে অপহরণকালী আঃ কাদেরের ভাই রুবেলের বশত বাড়ি থেকে সুমি আক্তার ও কন্যা আবিদাকে উদ্ধার করে শেরপুর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এদিকে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী আঃ কাদেরসহ অপরাপর আসামীরা পালিয়ে যায়।
এব্যাপারে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভিকটিম সুমি আক্তারকে ডাক্তারী পরীক্ষা এবং ২২ ধারায় তার জবান বন্দীর জন্য আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়াও অপহরণকারী আঃ কাদের ও সহযোগিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি এমনটাই জানান।

