ওমর ফারুক

আব্দুর রউফ আশরাফ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

নেতা সবাই হতে পারে না। প্রকৃত নেতা হওয়ার ইচ্ছাও অনেকের মাঝে নেই। সৎ গুণাবলির অনুকরণে নেতা আর জন্মে না। যারাই নেতৃত্ব দিতে চায়, নেতা হওয়ার স্বপ্ন লালন করেন তাদের অধিকাংশের স্বপ্নে থাকে শুধু ক্ষমতা দেখানোর স্বপ্ন। লোকে নেতা বলুক। লোকে মেনে চলুক। আমার কথায় সবাই উঠাবসা করুক। বাহবা দিবে। পিছনে পিছনে হাঠবে। এসব চিন্তাধারায় তরুণেরা নেতা হওয়ার স্বপ্ন বুনে।

অথচ নেতা হওয়া,নেতৃত্ব দেওয়া মহামূল্যবান একটি গুণ। এ গুণটি অর্জন করতে শিক্ষা-দীক্ষা,ত্যাগ-তিতীক্ষা দায়িত্ববোধতা জবাবদিহিতাসহ অনেক গুণ অর্জন করতে হয়। শান্তি শৃঙ্খলা ন্যায় অন্যায়ের সুষ্ঠু সমাধান,আর্থ-সামাজিকভাবে মানুষের সেবা শুশ্রূষা দেওয়ার মত মন মানসিকা তৈরী করতে হয়।

প্রাচীনকালে মনে করা হতো, নেতা যারা হতে চায় তারা জন্ম থেকেই এই ক্ষমতাটি অর্জন করে থাকে।

পাঠ অধ্যায়ন করে রাজনীতির দর্শন জেনে শুধু নেতা হওয়া যায় না৷ নেতা হতে চাইলে পারিবারিক শিক্ষা নিতে হয়৷ শিশুকাল থেকে পারিবারিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার শিক্ষা দিয়ে তুলতে হয়।

সমাজ ও দেশের অগ্রগতির কথা চিন্তা করবে তার উচিত পারিবারিকভাবে তাকে নানা ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করানো। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে দক্ষতার সঙ্গে অপরাপর মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করানো। পরিবারের বিভিন্ন ছোট-বড় দায়-দায়িত্ব দিয়ে দায়িত্ববান বানানোর দক্ষতা তৈরী করানো।

যে তরুণ নেতৃত্ব দিবে তার উচিত শুধু রাজনৈতিক নেতা হয়ে উঠা নয় বরং সে বিভিন্নগুণ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এমন একজন মানুষ হয়ে উঠবে, যে পরিবার-সমাজে-কর্মক্ষেত্রসহ সর্বোত্রই যোগ্যতার প্রতিফলন ঘটিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখবে, নিজ নিজ অবস্থানে ও কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। এদের মধ্যে থেকেই একটি শ্রেণি উঠে আসবে যারা সমাজ ও দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব প্রদান দিবে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও ভূমিকা পালনের মধ্যে দিয়েই একজন স্মার্ট নেতা গড়ে তোলা সম্ভব।

যাকে নেতা বানাবে তাকে তৈরি করার প্রক্রিয়া পরিবার থেকেই শুরু করতে হয়। নেতৃত্বের যে গুণাবলি রয়েছে তার চর্চা বেশি হওয়ার সুযোগ থাকে যৌথ পরিবারে। পরিবারে অনেক সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা ইত্যাদির চর্চা হয়।

আবার যৌথ পরিবার বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করে। বর্তমান বাস্তবতায় যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব বিলুপ্ত প্রায়। তা সত্ত্বেও আলাদা পরিবারে বসবাস করেও সন্তানের স্বার্থেই পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় রাখার ব্যাপারে পরিবারগুলোকে সচেষ্ট হতে হবে।

তাহলেই সম্ভব আগামী প্রজন্মের আদর্শবান নেতা হওয়া। সমাজ ও স্মার্ট দেশের নেতৃত্ব দেওয়া।