ওমর ফারুক
ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টুর বিরুদ্ধে ভালনারেবল উইম্যান বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে।

একই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামের চাল তুলে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় ২২ জানুয়ারি তারিখে ফের তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আরেক নারী। অভিযোগকারী ওই নারীর নাম হামিদা খাতুন। তিনি একই ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের উত্তর বড়ভিটা গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হামিদা খাতুন ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ভালনারেবল উইম্যান বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির সুবিধাভোগী হতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি কর্মসূচির সুবিধাভোগী হন। সুবিধাভোগীর তালিকায় তার নাম ৬৭ নম্বরে রয়েছে।
সুবিধাভোগী হওয়ার পর নিজ নামীয় কার্ডটি পেতে তিনি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টুর সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বারংবার কার্ডটি দেয়ার আশ্বাসই দেন। তাকে কার্ড প্রদান না করে তার কার্ড দিয়ে নিজে নিয়মিত চাল তুলে আত্মসাৎ করে আসছেন।
কার্ড ও চাল না পেয়ে ওই নারী ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজনের সদস্যের শরণাপন্ন হন। তাদেরকে ওই নারী অনুরোধ করেন তারা যেন চেয়ারম্যানকে বলে তার কার্ডটি ও চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।
কিন্তু তারাও চেয়ারম্যানের সাথে একাধিকবার আলাপ আলোচনা করেও কার্ড ও চাল প্রদানে চেয়ারম্যানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন।
উপায়ান্ত না পেয়ে নিজ নামীও কার্ডটি উদ্ধার এবং চাল আত্মসাতের বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগে অনুরোধ জানিয়েছেন ওই নারী।
চাল আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু বলেন, আমি ওই নারীর চাল আত্মসাৎ করিনি। তার কার্ড ও সমুদয় চাল ইউনিয়ন পরিষদে জমা আছে। ওই নারী পরিষদে আসলে কার্ড ও চাল দেয়া হবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিব্বির আহমেদ বলেন, বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টুর বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির নামে চাল তুলে আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সহ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওই অভিযোগের তদন্ত কাজ চলমান থাকা অবস্থায় একই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নতুন করে চাল আত্মসাতের আরেকটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

