ওমর ফারুক

গাজী ইসমাঈল ভাঁওয়ারী, বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেছেন, নারী নিজেকে পুরুষ ভাবা, পুরুষ নিজেকে নারী মনে করার ভাবনা আসাটাই পশুত্বের লক্ষণ।

ইউরোপীয়ানদের জীবনের অবস্থা, তারা যেভাবে জীবনযাপন করে সেই ব্যবস্থা আমরা আমাদের সমাজে দেখতে চাইনা। সরকার যদি এ বিষয়ে কোন ষড়যন্ত্রে নামে তাহলে দেশপ্রেমিক ঈমানদার জনতাও প্রতিবাদে মাঠে নামবে ইনশাআল্লাহ।

মুমিন বান্দাদের আন্দোলনের মুখে কোন ষড়যন্ত্র ঠিকে থাকতে পারবেনা। আমাদের সমাজে কোন ধরনের পশুত্বমূলক সংস্কৃতি যাতে গৃহিত না হয় সেজন্য যে ধরনের আন্দোলনের প্রয়োজন তৌহিদী জনতা সেই আন্দোলনেই ঝাঁপিয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ।

সপ্তম শ্রেণীর সামাজিক বিজ্ঞান বইসহ শিক্ষা সিলেবাসে যত জায়গায় কুরআন, হাদীস ও ইসলামবিরোধী বিষয় রয়েছে সব বাতিল ও অপসারণ করতে হবে।

আজ ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ বৃহস্পতিবার দুপুর বারটায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরস্থ জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্রান্সজেন্ডার : সভ্যতা বিধ্বংসী অপতৎপরতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতী মুজিবুর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী সুলতান মহিউদ্দীন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোফাচ্ছির হোসাইন, ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী আবুল হাসান কাসেমী প্রমূখ।

মুফতি মুজিবুর রহমান বলেন, নারী পুরুষের রুপ ধারণ করা, পুরুষ নারীর রুপ ধারণ করা, শরীরের অঙ্গহানি করা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পরিবর্তন করার অধিকার আল্লাহ তা’আলা কোন মানুষকে দেননি। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে সন্তান মায়ের পরিচয়ে বড় হয় কারণ জেনা-ব্যভিচার সেখানে এতটাই বেশি যে অনেক সন্তানের পিতৃপরিচয় খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। ট্রান্সজেন্ডারসহ পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া কোন ধারণা আমরা কখনোই মেনে নিতে পারিনা।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআ’লা বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দর অবয়বে’। এ সুন্দর অবয়ব আল্লাহ প্রদত্ত আমানত ও নেয়ামত।

এতে কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করা কিংবা শরয়ি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে এ স্বাভাবিক অবয়বে কৃত্রিম উপায়ে বিকৃতি সাধন করা শয়তানি ফাঁদ এবং চরম ঘৃণ্য ও অবৈধ কাজ।

বুখারী শরীফে এসেছে নারীর বেশধারণকারী পুরুষের ওপর এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী নারীর ওপর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ অভিশাপ দিয়েছেন।

মাওলানা হামিদী বলেন, হিজড়া আর ট্রান্সজেন্ডার এক নয়। জন্মগতভাবে বিশেষ শারীরিক ত্রুটিযুক্ত মানুষকে হিজড়া বলা হয়।

জন্মগত শারীরিক কোনো ত্রুটি নেই তারপরও কোন মেয়ে মনে মনে নিজেকে ছেলে অথবা কোন ছেলে নিজেকে মেয়ে মনে করাকে ট্রান্সজেন্ডার বলে। ট্রান্সজেন্ডারের নামে মূলত অভিশপ্ত সমকামিতাকে বৈধতা দেয়ার চক্রান্ত চলছে।


তিনি আরো বলেন, কেউ যদি নিজেকে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি মনে করে তাকে যেমনিভাবে স্বীকৃতি বা বৈধতা দেয়া যায় না, ঠিক তদ্রূপভাবে কোন পাগল-পাগলনি নিজেকে যদি ছেলে বা মেয়ে মনে করে তাকেও বৈধতা দেয়া বরদাস্ত করা হবে না।


মাওলানা হামিদী আরো বলেন, সম্প্রতি ট্রান্সজেন্ডার তথা বিশেষ অস্ত্রোপচার ও হরমোন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করে স্রষ্টার সৃষ্টিতে বিকৃতি করা প্রকট আকার ধারণ করেছে। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

সম্প্রতি হ্যাংগেরি ট্রান্সজেন্ডাদের লিগালাইজেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে। তিনি প্রকৃত হিজড়াদের পুনর্বাসন এবং ট্রান্সজেন্ডার নামে ঈমান ও সমাজ বিধ্বংসী মতবাদ লালনকারী ও বিস্তারে সক্রিয়দের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।