সম্পাদক

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন ওই বিভাগেরই এক ছাত্রী। আজ বুধবার দুপুরে উপাচার্য শিরীণ আখতারের কাছে ওই শিক্ষার্থী ওই অধ্যাপক সম্পর্কে লিখিতভাবে যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন।

এদিকে এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিভাগরে একদল শিক্ষার্থী বিজ্ঞান অনুষদের সামনে আজ বেলা তিনটার দিকে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন করেন। এ সময় উপাচার্য তাঁদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী বলেছেন, ‘আমি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে মাস্টার্সের থিসিস করছি। থিসিস চলাকালে আমার সুপারভাইজারের মাধ্যমে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হই। থিসিস শুরু হওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে তিনি বিভিন্ন যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন।

ওই ছাত্রী আরও বলেন, জোর করে হাত-পা চেপে ধরা, শরীরের বিভিন্ন অংশে জোরপূর্বক স্পর্শ করাসহ অসঙ্গত ও অনুপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেছেন। কেমিক্যাল আনাসহ আরও বিভিন্ন বাহানায় আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক জাপটে ধরতেন। গত ৬ জানুয়ারি সকাল ১০টার দিকে আমি ল্যাবে একা কাজ করা অবস্থায় তিনি জোর করে জড়িয়ে ধরেন। এরপর ১৩ জানুয়ারি নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

ওই ছাত্রী আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনা প্রকাশ না করতে ওই শিক্ষক তাঁকে ও তাঁর সহপাঠীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। এ অবস্থায় ওই ছাত্রী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর পক্ষে আর এই গবেষণাগারে থিসিসের কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই অধ্যাপক গণমাধ্যমকে বলেন, এসব ঘটনা বানোয়াট। ওই ছাত্রী পারিবারিক কারণে বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন। এ ছাড়া ওই গবেষণাগারে যখন কেউ থাকেন না, তখন ওই ছাত্রী তাঁর ছেলেবন্ধু নিয়ে সময় কাটান। এসব বিষয় নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলেছিলেন।

ওই অধ্যাপক আরও বলেন, তাঁর বয়স এখন ৫৬ বছর। প্রায় ৩০ বছর তিনি শিক্ষকতায় আছেন। যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, এটি ভয়ংকর। তাঁর থিসিসের শিক্ষার্থীরা কাজে কোনো ভুল করলে তিনি বকাবকি করেন, সেটিও শিক্ষার্থীদের ভালোর জন্য করেন। এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

এদিকে ওই ছাত্রীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন উপাচার্য শিরীণ আখতার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেলের আহ্বায়কের দায়িত্বেও আছেন। জানতে চাইলে উপাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছেন। খতিয়ে দেখে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।