ওমর ফারুক

আহসানুল হক নয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর প্রতিনিধি:

এইবার সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি পদে প্রার্থী হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৃণমূলের আলোচিত তরুণ নেত্রী ফারহানা মিলী (খুশি)। জানা যায় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখের সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর স্থানীয় নেতাদের পছন্দ এবং কেন্দ্রীয় নেত্রীদের যোগ্যতা বিবেচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আসীন হন তিনি। কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামিলীগ এর নির্দেশে এবং তাদের উপস্থিতিতে এক মহাসমারোহে উক্ত সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।  ফারহানা মিলী (খুশি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (০১)। দীর্ঘদিন তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের নিয়মিত কর্মী ছিলেন।

তার একাডেমিক বিবরণ অনুসারে জানা যায়, তিনি ধানমন্ডি ল’ কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গতবছর এলএলবি প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেছেন, যার সেশন ছিলো- ২০১৮-১৯ এবং পাস করার বছর ছিল ২০২৩ (কোভিড-19 এর কারণে)।  এর আগে তিনি টঙ্গী সরকারী কলেজ থেকে ২০১৮ সালে এমএ (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছেন। যার সেশন ছিলো ২০১৪-১৫। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজ থেকে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেছেন। যার সেশন ছিল ২০১০-১১ এবং তিনি ২০১৬ তে অনার্স শেষ করেন। এই দু’টি বিষয় ই তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামি শিক্ষা বিষয়ে সম্পন্ন করেছেন।  এর আগে তিনি কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে আলহাজ্ব বেগম নুরুন্নাহার কলেজ (নরসিংসার) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচ.এস.সি) এবং পয়াগ নরসিংসার এ. বারী উচ্চ বিদ্যালয় (নরসিংসার) থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস.এস.সি) সম্পন্ন করেছেন।  তিনি জাতীয় সমাজসেবা অধিদপ্তর-বাংলাদেশ সরকার 2013 (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অধীনে নগর সম্প্রদায় উন্নয়ন প্রকল্প সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন।

তার বাবা প্রয়াত মোঃ ইসমাইল/মস্তু মিয়া (বিএ)। কর্মজীবনে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আলীজান জুটমিলস, স্টার জুটমিলস এবং আদমজী জুটমিলসে চাকুরী করেছেন। এবং পরে অন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পদে দায়িত্বরত ছিলেন। তার মায়ের নাম মমতাজ শাহীন, তিনি একজন গৃহিনী।  ফারহানা মিলী একটি আধুনিক শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে। তার বড় চাচা ব্রাহ্মণবাড়িয়া পশ্চিমাঞ্চলের প্রথম এমএ পাশ ব্যক্তি এবং তিনি বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের মহাপরিচালক ছিলেন(অবসরপ্রাপ্ত)। তার অন্যান্য চাচারা চাকুরী এবং ব্যবসায়ী ছিলেন। ফারহানা মিলী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের ছোটহরণ গ্রামে বেড়ে উঠেছেন। মাশরাফি নামে তার ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান ছেলে সন্তান রয়েছে। 

মূলত ২০০৮ সালের নির্বাচন দিয়ে ফারহানা মিলীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক এমপি প্রয়াত এডভোকেট লুৎফুল হাই সাচ্চুর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা পোষণ করেন ফারহানা মিলী। সেই সময় কঠোর পরিশ্রম এর দ্বারা রাজনৈতিক অঙ্গনে পদচারনা ঘটে  কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মিলীর!  এরপর ধিরে ধিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে তৃণমূলের নিয়মিত কর্মী হয়ে উঠেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মিটিং মিছিলসহ প্রতিটি ইউপি, উপজেলা, জেলা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পৌরসভা নির্বাচনেও কঠোর পরিশ্রম এর বিনিময়ে নিজের সততা, স্বচ্ছতা এবং স্পষ্টবাদী উচ্চারণে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও নানান বিষয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসেবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের একটা শক্ত ভীত তৈরী করতে সক্ষম হন তিনি।

ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ফারহানা মিলী নিজেকে মেলে ধরেছেন একেবারেই ভিন্ন ধাঁচে, এক অনন্য ব্যক্তিত্বের উদাহারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছেন নিজেকে তিলে তিলে! বর্তমানে ফারহানা মিলী ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতিতে আইন পেশা চর্চায় যুক্ত আছেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালের এলএলবি(প্রফেশনাল কোর্স) সম্পন্ন করেছেন। ২০১৭ সালের জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দ্বারা বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মহিলা আওয়ামিলীগ এর ০১ নং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। তিনি গত প্রায় ৮ বছর যাবত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীর সঙ্গে জড়িত আছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ বার রক্ত দিয়েছেন। 

তিনি মাদক এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, তিনি জেলা নাগরিক ফোরামের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাইবার অপরাধ ও প্রতিরোধ বিষয়ক সংগঠন ‘সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিল’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং তৃণমূলে নারী খেলোয়ারদের সংগঠন ‘লেট’স প্লে’ এর- একমাত্র উদ্যোক্তা! এ ছাড়াও তিনি নানাবিধ সামাজিক সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।