সম্পাদক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মস্কোর কনসার্ট হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা করেছে একাধিক দেশ। শনিবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাজধানীতে এই হামলায় ১১৫ জন মানুষ নিহত হয়েছেন৷ “ইসলামিক স্টেট” জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
শুক্রবার রাতে মস্কোর কাছে হামলায় কমপক্ষে ১১৫ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর কনসার্ট হলে হামলাকে ‘বর্বর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি ২৪ মার্চ রোববারকে শোকদিবসও ঘোষণা করেছেন।
মস্কোর গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিওভ বলেছেন, উদ্ধারকর্মীরা কনসার্ট হলের ধ্বংসস্তূপের মধ্য তল্লাশি চালাবেন। টেলিগ্রামে একটি পোস্টে তিনি বলেছেন, “উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থলে চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছে। উদ্ধার কাজ অন্তত আরো কয়েক দিন চলবে।” রাশিয়ার তদন্ত কমিটি টেলিগ্রামে প্রথমে বলেছে, “৯৩ জন মারা গেছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।” পরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৫ জনে।
শিশুকল্যাণ বিভাগের ন্যায়পালের বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বার্তা সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, মস্কোর এই হামলায় আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। রাশিয়া বলেছে, সন্দেহভাজনদের মধ্যে চারজন মস্কোর উপকণ্ঠে কনসার্ট হলে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ক্রাসনোগর্স্ক শহরে কনসার্ট শুরুর কিছুক্ষণ আগে ছদ্মবেশধারী সন্ত্রাসীরা ক্রোকাস সিটি হলে প্রবেশ করে গুলি চালায়।
রাশিয়ার এফএসবি সিকিউরিটি সার্ভিসের পরিচালক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনকে বলেছেন এই ঘটনায় ১১ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, এর মধ্যে “এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত চার সন্ত্রাসী রয়েছে। ” এদিকে, আইন প্রণেতা আলেকজান্ডার খিনশটাইন টেলিগ্রামে বলেন, একটি গাড়িকে ধাওয়া করে ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে প্রথমে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
রাশিয়ার এফএসবি সিকিউরিটি সার্ভিস জানিয়েছে, মস্কোর কনসার্ট হল হামলার সন্দেহভাজন অপরাধীরা ইউক্রেন সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল, ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে।এফএসবি বলেছে, অপরাধীদের ইউক্রেনে যোগসাজশ ছিল। তবে এই প্রেক্ষিতে আরও তথ্য বা প্রমাণ সরবরাহ করেনি। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে, শনিবার রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটির বরাত দিয়ে আরআইএ বার্তাসংস্থা এ কথা নিশ্চিত করেছে। সোভিয়েত-আমলের রক ব্যান্ড পিকনিকের এই কনসার্টে পারফর্ম করার কথা ছিল। ব্যান্ডের সদস্যরা প্রত্যেকেই “জীবিত এবং নিরাপদ” বলেই জানা গিয়েছে।
“ইসলামিক স্টেট” (আইএস) ক্রোকাস সিটি হলে হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইএস সন্ত্রাসীরা “রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে কনসার্টে উপলক্ষ্যে হওয়া বিশাল সমাবেশে হামলা চালায়”। এই গোষ্ঠী তাদের টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপের বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নিরাপদে রয়েছে, নিজেদের ঘাঁটিতেও ফিরে গেছে। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা একটি সাদা রেনল্ট গাড়িতে করে কনসার্ট হল থেকে পালিয়ে যায়।
দুই সপ্তাহ আগে, রাশিয়ায় মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছিল যে “চরমপন্থিদের” মস্কোতে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। এফএসবি বলেছে, জঙ্গি গোষ্ঠী “ইসলামিক স্টেট” এর একটি সেল মস্কোর সিনাগগে হামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। তার কয়েক ঘণ্টা পরই দূতাবাস সতর্কতা জারি করেছিল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মস্কোতে “বড় সমাবেশ” লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেছেন, মার্চের শুরুতে সতর্কতা এসেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি মেনেই সে কথা জানানো হয়েছিল।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পুটিন সরকার ও রুশ জনগণের প্রতি ভারতের সংহতির কথা জানান। তার এক্স প্ল্যাটফর্মে বলা হয়েছে, “মস্কোতে জঘন্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে ভারত সরকার. রাশিয়ার জনগণের পাশে রয়েছে।”
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মস্কোতে সন্ত্রাসী হামলার বিস্তারিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছে, “মস্কোর কাছে ক্রোকাস সিটি হলে নিরপরাধ মানুষের ওপর মারাত্মক এই হামলার ছবিগুলো ভয়াবহ। এর প্রেক্ষাপট বিচার করে দ্রুত তদন্ত করা উচিত।”
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, মস্কোর ঘটনা ভয়াবহ। তারা এক্সে লিখেছে, “এই জঘন্য কাজের কারণ জানার জন্য সবরকম প্রচেষ্টা করতে হবে।”
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মস্কোকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে “রাশিয়া সরকার এবং অন্যান্য সমস্ত প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা” করার জন্য সমস্ত রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে তারা।
একটি বিবৃতিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, “সন্ত্রাসবাদের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের” অপরাধীদের এবং মদতদাতাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা এই জঘন্য ও কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।”

