সম্পাদক
মোঃ জিয়াউল হক, বারহাট্টা (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার বারহাট্টায় হ্যান্ডট্রলিতে করে পাচারকালে ৮০বস্তা সরকারী চাল জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩জুন) রাত বারোটার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জবাজারে ওই চাল জব্দ করে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালকসহ হ্যান্ডট্রলিভর্তি চাল থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় হ্যান্ডট্রলির চালককেও আটক করা হয়েছে। আটক বাপ্পী (২৭) সদর উপজেলার বাইশদার গ্রামের বাসিন্দা।
বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ হতে উপজেলার রায়পুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দুস্থদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়। রাত ১২টার দিকে কতিপয় ব্যক্তি হ্যান্ডট্রলিতে করে ৮০বন্তা চাল নিয়ে নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণার দিকে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাজারের লোকজন চালকসহ ট্রলিভর্তি চাল আটক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি কৈলাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ নূরীর ছেলে সৈকত আহমেদ নূরীকে খবর দেয়। পরে সৈকত বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায়।
সৈকত আহমেদ নূরীর অভিযোগ, চালের বস্তাগুলো রায়পুর ইউনিয়ন থেকে ঠাকুরাকোণায় পাচার করা হচ্ছিল। দুস্থদের মাঝে বিতরণের এই চাল রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু কালোবাজারে বিক্রী করেছেন। তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু বলেন, চাল জব্দের বিষয়টি শুনেছি। এই চাল আমার নয়। আমার ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সমুদয় চাল সঠিক নিয়মে বিতরণ করা হয়েছে। ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, গতরাতে ৮০বস্তা চালসহ একটি হ্যান্ডট্রলি আটক করে এলাকাবাসী। চালগুলো নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে চালসহ হ্যান্ডট্রলি ও এর চালককে থানায় নিয়ে আসা হয়। চালগুলো সাদা বস্তায়। এগুলো কিসের চাল জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে, উপজেলার আসমা ইউনিয়নেও সরকারী চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের কোন কোন সদস্য ভূয়া স্লিপের মাধ্যমে চাল তুলে কালোবাজারে বিক্রয় করেছেন বলে অভিযোগে জানা যায়। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম ছন্দু জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

