সম্পাদক
নিউজ ডেস্ক:
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জানান, প্রয়োজন মনে করলে সরকার কোটা পদ্ধতির পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে এবং কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে গত ৫ জুন ঘোষিত হাইকোর্টের বহুল আলোচিত রায়ের মূল অংশ (অপারেটিং পার্ট) প্রকাশিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ে বলা হয়েছে যে, বিবাদীরা (সরকার) যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে কোটা রিডিউস (হ্রাস), ইনক্রিজ (বাড়ানো), দ্য রেশিও অব দ্য পার্সেন্টেজ (শতকরা হার) পরিবর্তন-পরিবর্ধন করতে পারে। কোনো পাবলিক পরীক্ষায় যদি কোটা থেকে চাকরিপ্রার্থী না পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে প্রার্থীর মাধ্যমে তা পূরণ করতে বিবাদীদের স্বাধীনতা থাকবে। এ রায় সরকারের পরিবর্তন-পরিবর্ধনে কোনো বাধা হবে না।
এর আগে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত চেয়ে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্র পক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বুধবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাচ বিচারপতির আপিল বিভাগ আদেশ দেন। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে কোটা নিয়ে আইনী বিরোধের এই বিষয়বস্তুর ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দেয়া হয়।
বুধবার এই আদেশের সময় প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, ‘এটা নিয়ে রাস্তায় নেমে যারা স্লোগান দিচ্ছেন সেটা এপ্রিশিয়েট করার মতো না। তবে আমার যা মনে হয় তারা ভুল বুঝেই এটা করেছে। যাই হোক তারা আমাদেরই ছেলে-মেয়ে। আমি প্রথম দিনেই বলেছি রাস্তায় স্লোগান দিয়ে আদালতের (জাজমেন্ট চেঞ্জ) রায় পরিবর্তন করা যায় না এটার জন্য (প্রপার স্টেপ) যথাযথ পদক্ষেপ নেন। আজকে আমি ধন্যবাদ জানাই যে দুটি ছেলে এসেছেন (হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে) তাদের আইনজীবী শাহ মনজুরুল হককে। তারা অন্তত পক্ষে একটি যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘রাতে টেলিভিশন যখন দেখি মনে হয় সমস্ত জ্ঞান তাদেরই। আর আমরা যারা এখানে বসে আছি আমাদের কোন জ্ঞানই নাই। এত কথা বলে উস্কানি দেওয়ারতো কোন মানে হয় না।’
কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি গতকাল শুনানিতে বলেন, ‘এখন সেটা (রায়টি) সঠিক হয়েছে কি, হয় নাই তা দেখার অধিকারটা কার? সেটা দেখার অধিকার সুপ্রিম কোর্টের। একমাত্র আপিল বিভাগের। আমাদের ক্ষমতা আছে হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করার বা না করার। আবার বলতে পারি হাইকোর্টের রায়টি ঠিক হয়নি বা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা কোনটা বলবো? রায়টি আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত তো তা বলতে পারছি না। আমার মনে হয় রায়টি আমাদের সামনে আসুক, রায়টি আসলে আমরা প্রপার মূল্যায়ন করবো।’
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলে গতকাল প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সকল প্রতিবাদী কোমলমতী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে নিজ নিজ কাজে অর্থাৎ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে বলছি। আর দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্জ মহোদয়, প্রক্টোর ও অন্যান্য বিদ্যালয়ের প্রধানগণকে তাদের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করবেন বলে এই আদালত আশা করে।’
প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি গতকাল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকারীরা চাইলে আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বক্তব্য আদালতের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। আর আদালত মূল দরখাস্তটি নিষ্পত্তি কালে তাদের বক্তব্যটি বিবেচনায় নিবে।’
সর্বোচ্চ আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে দুই শিক্ষার্থীর আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। আর হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আর হাইকোর্টে রায় প্রকাশের আগে সে রায় স্থগিত না করার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

