ওমর ফারুক
আহসানুল হক নয়ন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
আরজিনা আক্তার নুসাইবা ছয় মাসের গর্ভবতী। স্বামী থাকেন প্রবাসে। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাকে শশুর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে মাসখানেকের বেশি সময় আগে। এমনকি উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেছেন আরজিনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের গৃহবধূ আরজিনা এখন আশ্রয় নিয়েছেন নানার বাড়িতে। বাবাহীন ওই নারী এখন শশুর বাড়ি ফিরতে চান। এজন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। এলাকাবাসীও তার সঙ্গে একমত পোষণ করে ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে ঘরে তোলার দাবি কেনা বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেনা বাজার এলাকার প্রয়াত রহমত আলী তিন ছেলে। এর মধ্যে আজিম উদ্দিন সজিব ও জসিম উদ্দিন ফাহিম একই বাড়িতে বসবাস করেন। আরেক বিমাতা ভাই আলাদা থাকেন।আজিম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন দু,জনই প্রবাসে থাকতেন।
এর মধ্যে জসিম উদ্দিন এখনো প্রবাসে থাকেন। জসিম উদ্দিনের স্ত্রী আরজিনা অভিযোগ করেন, দুবাইয়ের বসবাসরত তার স্বামী সেখান থেকে বড় ভাইয়ের কাছে টাকা পাঠাতো। কয়েকমাস আগে ছুটিতে বাড়িতে এসে জানতে পারেন বড় ভাই আজিম এসব টাকাসহ পারিবারিক সম্পত্তি আত্মসাত করেছেন। কিছুদিন আগে তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তার এক ননাসকে নিয়ে টিকার কার্ড নিতে এসেও লাঞ্ছনার শিকার হন।
২০ দিন আগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দেওয়া হয়। এর আগে তার স্বামীর বিরুদ্ধেও মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কেনা বাজারে হওয়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ নিয়ে এলাকাবাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।বাবাহীন আরজিনার উপর অন্যায় অত্যাচার করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ তুলেন।
এ নিয়ে এলাকায় একাধিক সালিস হলেও বুধন্তী ইউনিয়ন যুবলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আজিম উদ্দিন রায় মানতে রাজি হননি। মানববন্ধনে আরজিনা ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেনা গ্রামের মহারাজ মিয়া, গাজী মিয়া, আলমগীর হোসেন, আবুল ফায়েজ, হোসেন মিয়া ও জামাল মিয়া।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য আজিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে এক নারী জানান, তিনি বাইরে আছেন এবং কখন আসবেন তাও জানেন না। বাড়িতে গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করা হলেও গেট খোলা হয়নি। তবে বাড়িতে একাধিক নারী সদস্যকে দেখা যায়।

